সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈশাখ উদযাপন আরও উৎসবমুখর করতে জাতীয় বেতন কমিশন বৈশাখী ভাতা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দিচ্ছে। কমিশন এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন বুধবার প্রধান উপদেষ্টার দফতরে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পে কমিশনের এক সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেলের সরকারি কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা বর্তমান মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হচ্ছে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ ভাতা পান। এই পরিমাণ বাড়িয়ে এক্ষেত্রে বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের অর্ধেক করার প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং বুধবার এটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।
পে কমিশনের সদস্যদের মতে, বৈশাখী ভাতায় বড় পরিবর্তন হলেও ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার বোনাসের পরিমাণ আগের নিয়মেই বহাল থাকবে; অর্থাৎ ঈদ বোনাসে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
এদিকে চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোরও প্রস্তাব করা হচ্ছে। বর্তমানে নবম পে স্কেলে চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ভাতা দুই বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নির্ধারণের প্রস্তাব থাকছে—৪০ বছর বা কম বয়সিদের জন্য মাসিক ৪ হাজার টাকা, আর ৪০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকা।
পে কমিশনের আরও একজন সদস্য বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ে—এ বিষয়টি মাথায় রেখে বয়স্কদের ভাতা তুলনামূলকভাবে বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাব বাস্তব হলে অবসরের পরও একজন সরকারি কর্মচারী মাসিক ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন।
এদিকে বর্তমান ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ টাকা, নবম গ্রেডে বিসিএস কর্মকর্তাদের ২২ হাজার টাকা এবং সচিবদের মূল বেতন ৭৮ থেকে ৮৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশয় থাকলেও অর্থ মন্ত্রণালয় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা রেখেছে, যা আগের তুলনায় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বেশি।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জানুয়ারি থেকেই মূল বেতন বা ভাতার কোনো একটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই বরাদ্দ রাখা হয়েছে; বাকি অংশ পরবর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।




