ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অ’গ্নি’কাণ্ড: ৪৫০ ঘর পুড়ে তিন হাজার মানুষ ঘরবাড়িহীন

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত প্রায় ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগে। প্রথমে ডি-৪ ব্লকের ব্র্যাক পরিচালিত একটি শিখন কেন্দ্র থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের শেডে।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় এবং ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় ভোর ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুনের তীব্রতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্যাম্প প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে তিনটি ব্লকের প্রায় ৪৫০টি ঘর পুড়ে গেছে। পাশাপাশি ১০টি শিখন কেন্দ্র, ২টি মসজিদ এবং ১টি মাদরাসাও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুড়ে যাওয়া ঘরগুলোতে কমপক্ষে তিন হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করতেন। ফলে অনেকেই এক রাতে তাদের আবাসন হারিয়ে শীতের মধ্যে বিপাকে পড়েছেন।

ডি-৪ ব্লকের সাব মাঝি মোহাম্মদ হাশেম বলেন, রাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে বের হলে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তার সাব ব্লকের একটিও ঘর বাঁচেনি। আর ক্ষতিগ্রস্ত এক রোহিঙ্গা মোহাম্মদ জুবায়ের জানান, তার আট সদস্যের পরিবার শীতের মধ্যে ঘর হারিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছে, কীভাবে জীবনযাপন করবেন তারা জানেন না।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, খবর পেয়ে তাদের ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করেছে এবং আগুনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, তারা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অগ্নিদুর্গত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন লাগার ঘটনা নতুন নয়। গত ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে একটি হাসপাতাল আগুনে পুড়ে যায় এবং ২৫ ডিসেম্বর রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পে ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন