সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ফল প্রকাশ নিয়ে দেশজুড়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ফল প্রকাশ, মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত নিয়োগ আদৌ হবে কি না এ নিয়ে চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাম-পরিচয়হীন সূত্রে নানা অনুমাননির্ভর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় আগামী ২৩ দিনের মধ্যে সরকারি চাকরির কোনো পরীক্ষা না নেওয়ার দাবিতে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দেওয়ার পর এই গুজব আরও জোরালো হয়েছে।
তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বলছে, এ বিষয়ে সরকার বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক এ কে সামছুল আহসান জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। তবে পরীক্ষা বাতিল হবে এমন তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল প্রকাশের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট করেন, বিষয়টি নিয়ে নানা অনুমান ছড়ানো হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। ফল প্রস্তুত হলেই তা প্রকাশ করা হবে।
অধিদপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচনের আগেই মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারির মধ্যে ফল, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভাইভা এবং ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত নিয়োগ সম্পন্ন করার চিন্তা রয়েছে। তবে পরিস্থিতির কারণে এতে পরিবর্তনও আসতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি প্রার্থী। পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁসের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এবং ‘ডিভাইস পার্টি’র তৎপরতার অভিযোগ ওঠে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে ডিভাইস ব্যবহার করে জালিয়াতির অভিযোগে ২০৭ জনকে আটক করা হয় যাদের মধ্যে গাইবান্ধায় ৫৩, নওগাঁয় ১৮, দিনাজপুরে ১৮, কুড়িগ্রামে ১৬ ও রংপুরে দুজন রয়েছেন। এ ঘটনায় পরীক্ষা বাতিলের দাবি তুললেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ মেলেনি; বরং জালিয়াত চক্রকে গ্রেফতার করায় পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই।




