ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইসলামী আন্দোলন না এলে ফাঁকা আসন ভাগ হবে অন্যদের মধ্যে

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১০টি দল দীর্ঘ টানাপোড়েন, দেনদরবার ও শেষ মুহূর্তের টানা বৈঠকের পর নির্বাচনি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে শুরু থেকেই এই উদ্যোগে যুক্ত থাকা ইসলামী আন্দোলন গত শুক্রবার ২৬৮ আসনে প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট থেকে সরে যায়। যদিও দলটি ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে বাকি ২৫৩ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত জামায়াতসহ ১০ দল ইসলামী আন্দোলনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। যদি তারা না আসে, তবে জোটের অন্য শরিকরা, বিশেষ করে এনসিপিসহ অন্যান্য দল, সেই আসনগুলো বাড়িয়ে নেবে। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা এ বিষয়ে জামায়াতকে ইতোমধ্যে অবহিত করেছেন বলে জোটের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।

ঘোষিত সমঝোতা অনুযায়ী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ১৭৯ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বাকি আসনগুলোতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২০টি, খেলাফত মজলিস ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ৩টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) ও নেজামে ইসলাম পার্টি ২টি করে প্রার্থী দিয়েছে। এই নির্বাচনি মোর্চার দুই দল বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) কোনো প্রার্থী না দিলেও তারা জোটে অংশগ্রহণ করছে। সমঝোতা অনুযায়ী ৪৭টি আসন ইসলামী আন্দোলনের জন্য ফাঁকা রাখা হয়েছিল।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ দল শেষ সময় পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনের জন্য অপেক্ষা করবে। তবে তারা যদি শেষ পর্যন্ত না আসে, তাহলে ৪৭টি ফাঁকা আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত লিয়াজো কমিটি চূড়ান্ত করবে। জোট সূত্রে জানা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন ধার্য থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই জামায়াতসহ সমমনা দলগুলো একযোগে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন ও গণভোট আলাদা দিনে করার দাবিতে আন্দোলনে নেমে একত্রিত হয়েছিল। পরে তারা একসাথে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। জামায়াত ৪০টি আসন ছাড় দিতে চাইলেও ইসলামী আন্দোলন ৭০টি আসনের দাবি তুলেছিল। কয়েক দিনের দর-কষাকষির পর গত বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় জামায়াতসহ ১০ দলের নেতারা সংবাদ সম্মেলনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেন এবং ৪৭ আসন ফাঁকা রেখে ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেন। পরের দিনই ইসলামী আন্দোলন আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের গাজী আতাউর রহমান বলেন, দলটি ২৭০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল এবং দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ আসনে তারা প্রার্থী হিসেবে কাজ করছে এবং কেউ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না। এছাড়া বাকি ৩২ আসনে তারা ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সৎ, যোগ্য ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ প্রার্থীকে সমর্থন দেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন