ঢাকা | শনিবার
৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার ৯০তম জন্মদিন আজ

আজ সোমবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর-উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়িতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তাঁর জন্ম। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক ও সাহসী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তিনি ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কিছু বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি শহীদ হন।

শহীদ জিয়াউর রহমানের পারিবারিক নাম ছিল কমল। তাঁর বাবা মনসুর রহমান ছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং মা জাহানারা খাতুন। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ১৯৫৩ সালে পাকিস্তান সামরিক একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে তাঁর সামরিক জীবন শুরু হয়।

১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকার অদূরে জয়দেবপুর সাব-ক্যান্টনমেন্টে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে যোগ দেন এবং একই বছর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পশ্চিম জার্মানি যান। ১৯৭০ সালের সেপ্টেম্বরে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়, যেখানে তাঁর ঘাঁটি ছিল ষোলশহর বাজার এলাকায়।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে “আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি”—এই ঘোষণা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করে। ২৬ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কর্নেল এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিস্তীর্ণ এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং ‘জেড ফোর্স’ গঠন ও নেতৃত্ব দেন।

স্বাধীনতার পর তিনি সেনাবাহিনীতে ডেপুটি চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বরের সৈনিক-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবে তিনি মুক্ত হয়ে জাতির নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ক্ষমতায় এসে তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক জোট সার্ক গঠনে উদ্যোগ নেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বাণীতে শহীদ জিয়াকে স্বপ্নদ্রষ্টা রাষ্ট্রনায়ক আখ্যা দিয়ে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। আজ সকাল ১১টায় শেরেবাংলানগরে শহীদ জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এছাড়া আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের মাল্টিপারপাস মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন