ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে আজ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

আজ (১৮ জানুয়ারি) পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দেশটির রাজনীতিতে যে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে এই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে এক ধরনের ‘স্থিতিশীলতার পরীক্ষা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ স্বাস্থ্যব্যবস্থা (এসএনএস), অভিবাসন নীতি ও বাসস্থান সংকট। ফলে রাষ্ট্রপতি পদে কে আসবেন তার ওপর এই নীতিগুলোর দিকনির্দেশনাতেও নৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হবে।

এবার নির্বাচনে মোট ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছেন অ্যান্টোনিউ জোসে সেগুরু। তিনি সাবেক সমাজতান্ত্রিক নেতা এবং বর্তমানে সোশালিস্ট পার্টি (পিএস)-এর আনুষ্ঠানিক সমর্থনপ্রাপ্ত প্রার্থী। সেগুরু নিজেকে গণতন্ত্র, সংবিধান, জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও পাবলিক শিক্ষার ‘রক্ষাকবচ’ হিসেবে উপস্থাপন করছেন।

অন্যদিকে লুইস মার্কেস মেন্দেস প্রথাগত কেন্দ্র–ডান রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি সাবেক পিএসডি নেতা এবং ক্ষমতাসীন জোটের পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন। প্রভাবশালী কনজারভেটিভ নেতা মানুয়েলা ফেরেইরা লেইতও তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

স্বাধীন প্রার্থী আলমিরান্তে এনরিকি গুভেইয়া ই মেলু সাবেক নৌবাহিনী প্রধান ও কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনপ্রিয়। তিনি নিজেকে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে ‘রাষ্ট্রনায়কসুলভ’ বিকল্প হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা নিয়ে কথা বলছেন।

বামপন্থী প্রার্থী কাতারিনা মার্তিন্স সাবেক ব্লকো দে এসকেরদা (বিই) নেত্রী। তিনি মজুরি, পেনশন, সামাজিক সুরক্ষা, সরকারি স্কুল ও সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও আবাসন অধিকারকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কট্টর ডানপন্থী চেগা দলের নেতা আন্দ্রে ভেনতুরা অভিবাসন, অপরাধ দমন, ‘আইন–শৃঙ্খলাভিত্তিক রাষ্ট্র’ ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদের স্লোগান নিয়ে লড়ছেন। গত মাসগুলোতে তার সমর্থনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে।

কমিউনিস্ট পার্টি (পিসিপি) সমর্থিত অ্যান্টোনিউ ফিলিপি ঐতিহ্যগত বামধারার শ্রমিক অধিকার, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের শক্তিশালী উপস্থিতি ও ন্যাটো–সমালোচনামুখী অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

লিভ্রে (লিব্রে) প্ল্যাটফর্মের প্রার্থী জর্জে পিন্তু জলবায়ু ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

টিভিআই–সিএনএন যৌথ সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, লুইস মার্কেস মেন্দেস সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন, আর অ্যান্টোনিউ জোসে সেগুরু ঘনিষ্ঠভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন। আন্দ্রে ভেনতুরা দ্রুত সমর্থন বাড়ালেও এখনও পিছিয়ে আছেন।

জরিপগুলো একযোগে দেখাচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, অভিবাসন নীতি ও আবাসন সংকট এই নির্বাচনের মূল আলোচ্য বিষয়। বিভিন্ন প্রার্থী এই তিন ইস্যুকে নিজেদের মতাদর্শ অনুযায়ী ব্যাখ্যা করায় প্রচারণার টোনও স্পষ্টভাবে বাম–ডান লাইনে বিভক্ত।

সিএনএন পর্তুগাল ও আরটিপি–এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, চেগা এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংসদীয় শক্তি হিসেবে গড়ে উঠায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আন্দ্রে ভেনতুরার পারফরম্যান্স কেবল তার ব্যক্তিগত অবস্থান নয়, কট্টর ডান রাজনীতির ভবিষ্যৎ প্রভাবও মাপবে।

অন্যদিকে সুশীল সমাজের শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, অধিকারকর্মী ও গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে অনেকেই অ্যান্টোনিউ জোসে সেগুরু ও গুভেইয়া ই মেলোর মতো প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকছেন। আর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারের গভীর সংস্কারের পক্ষে থাকা বাম ভোটাররা কাতারিনা মার্তিন্স, অ্যান্টোনিউ ফিলিপি ও জর্জে পিন্তুর দিকে নজর দিচ্ছেন।

এই প্রেক্ষাপটে আজ পর্তুগিজ নাগরিকরা শুধু পরবর্তী পাঁচ বছরের রাষ্ট্রপতি বেছে নিচ্ছেন না, তারা একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, অভিবাসন, আবাসন ও গণতন্ত্র নিয়ে দেশের কোন পথে এগোতে চায় তারও সংকেত দিচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন