ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রকাশ পেলো অঞ্জন দত্তের আত্মজীবনী ‘অঞ্জন নিয়ে’

গান, সিনেমা কিংবা লেখালেখি—বহু পরিচয়ের ভিড়ে অঞ্জন দত্ত বরাবরই আলাদা। দীর্ঘ শিল্পজীবনের নানা বাঁক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের গল্প এবার এক মলাটে বন্দি করলেন তিনি। নিজের জীবনকথা নিয়েই প্রকাশ পেল অঞ্জন দত্তের আত্মজীবনী ‘অঞ্জন নিয়ে’।

১৫ জানুয়ারি দে’জ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই, ১৯ জানুয়ারি, অঞ্জন দত্তের জন্মদিন। সেই বিশেষ দিনকে সামনে রেখেই নতুন বইটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

বই প্রকাশ উপলক্ষে ১৫ জানুয়ারি কলকাতার পার্কস্ট্রিটের অক্সফোর্ড বুক স্টোরে আয়োজন করা হয় ‘বাহাত্তুরে অঞ্জন’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী ও পরিচালক অপর্ণা সেন। তাঁর হাতেই বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন হয়।

নিজের লেখার প্রসঙ্গে অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘আর ক’দিন পর ৭২ শেষ করে ৭৩-এ পা দেব। মনে হলো, এই সময়টাই আত্মজীবনী লেখার জন্য ঠিক। পরে হলে হয়তো আর পারব না। তখন হয়তো অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে যাব, রসবোধ কমে যাবে, অপ্রয়োজনীয় কথা বেশি ঢুকে পড়বে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্মৃতিকথা মানেই সত্যি কথা। আমি চেষ্টা করেছি সেই সত্যিটুকুই লিখতে।’

এই বইয়ে উঠে এসেছে অঞ্জন দত্তের জীবনের নানা অধ্যায়—ক্যারিয়ার, সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও ভাঙাগড়ার গল্প। কলকাতার বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও জায়গা পেয়েছে পাতায় পাতায়। অঞ্জনের কথায়, ‘মৃণাল সেনের সঙ্গে আমার সম্পর্কের কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু খুব কম মানুষ জানেন, সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গেও আমার এক ধরনের অদ্ভুত ও মজার সম্পর্ক ছিল।’

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের জীবনও জায়গা পেয়েছে আত্মজীবনীতে। জার্মানিতে চাকরির অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে পৃথিবীর নানা প্রান্তের খ্যাতনামা মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের গল্প—সব মিলিয়ে এই বই একান্তই তাঁর নিজস্ব যাত্রাপথের দলিল।

শেষ বয়সের উপলব্ধি নিয়েই অঞ্জন দত্ত বলেন, ‘এই গল্পগুলো জানলে মানুষ আমাকে হয়তো আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবে। আমার জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এটাই রেখে যেতে চাইলাম। আশা করি, আজকের প্রজন্মের পাঠকদেরও বইটি ভালো লাগবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন