আসন বণ্টন নিয়ে টানাপোড়েনের কারণে ইসলামী আন্দোলন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় পর দলটির সাথে সমঝোতার ৪৪ আসন থেকে ভাগ চাইছে এনসিপি এবং মামুনুল হকের খেলাফত মজলিস।
সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আগে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে একসঙ্গে এসেছিল জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ আট দল। এর পর জোটবদ্ধ নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে জোটে যোগ দেয় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের দল এনসিপি, বিএনপির জোট ছেড়ে আসা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের এলডিপি এবং এক সময়ে আদর্শিক দ্বন্দ্বে জামায়াত ছেড়ে যাওয়া নেতাদের দল এলডিপি। এতে ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ পুরোনো শরিকদের ভাগের আসন কমে যায়। ফলে আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও চরমোনাইয়ের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়।
প্রথমে চরমোনাইয়ের দাবি ছিল ৭০ আসন। শেষমেষ ৫০ আসন চেয়েছিলো তারা। জামায়াত দলটিকে কয়েকটি উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়ে ৪৪ আসন ছাড়তে রাজি হয়।৪৪ আসনে ছাড় পেলেও পছন্দের তালিকায় অগ্রাধিকারে থাকা আসন না পেয়ে ইসলামী আন্দোলন শুক্রবার জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
ইসলামী আন্দোলন সূত্রের জানা গিয়েছে, এনসিপিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে জামায়াত। ইসলামী আন্দোলনের আপত্তি থেকে সত্ত্বেও পিরোজপুর-৩ সহ কয়েকটি আসন এনসিপিকে দেয় জামায়াত।
ইসলামী আন্দোলনের জন্য রাখা ৪৪ আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে জামায়াত। এনসিপি বলছে, সেই ৪৪ আসন থেকে তাদের ভাগ দিতে হবে। এনসিপিকে ৩০ আসন ছাড়তে রাজি হয়েছে জামায়াত। ৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে এনসিপি। কোন ২৭টি আসনে শাপলা কলির প্রার্থীরা জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হবেন তা ঠিক করা হয়েছে। আরও তিনটি আসন এনসিপিকে ছাড়বে জামায়াত। তবে এখন এনসিপি আরও ১০টি আসন চায়।
এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মনিরা শারমিন বলেছেন, আরও কিছু আসন এনসিপি পেতে আলোচনা চলছে। ৩০টি আসন নিশ্চিত হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার পর বলা যাবে, এনসিপি কতটি আসনে নির্বাচন করবে।
অপর দিকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ২০ আসন ছেড়ে দিয়েছে জামাত। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। কোন ১৬টি আসনে রিকশা প্রতীকের প্রার্থীরা জোটের হচ্ছেন তাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দুটি আসন উন্মুক্ত রাখার সমঝোতা হয়েছিল তাই মামুনুল হকের দলকে আরও দুটি আসন ছাড়বে জামায়াত। তবে রিকশা প্রতীকে আরও পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় মামুনুল হকের দল।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকা অবস্থায় সমঝোতা হয়েছিল রিকশা প্রতীকে ২০ জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন। বাকিরা জোটের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অন্তত ২৫ আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। ইসলামী আন্দোলন জোটে না থাকায় এখন কিছু আসন খালি হয়েছে। এর কয়েকটিতে অবশ্যই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন করবে।
গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ২৫০ আসনে সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছিল জামায়াত, এনসিপিসহ ১০ দল। তবে গতকাল রাত পর্যন্ত এসব আসনে সমঝোতা সম্পন্ন হয়নি। ১০ দলের সমন্বয়ক এবং জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, শনি বা রোববারের মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাবে কোন দল কত আসনে নির্বাচন করবে। তখনই বলা যাবে, এনসিপি বা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আসন বাড়বে কিনা।




