ঢাকা | রবিবার
১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৮ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক জোট গঠন ও ভাঙনের ইতিহাস

চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। দলটি ধর্মীয় নীতির ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক ভূমিকা রাখতে চেয়েছে, কিন্তু বড় জাতীয় জোট গঠন ও স্থায়ী অংশীদারিত্ব তৈরি করতে এখনও পর্যন্ত সফল হয়নি।

 ২০০১ — ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট : ২০০১ সালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচনী জোট ইসলামী জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টে অংশ নেয়। জোটে জামায়াতে ইসলামী, জাপা এবং কয়েকটি ছোট ইসলামি দল অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে কিছু আসন জয় করা সত্ত্বেও নেতৃস্থানীয় দল এবং সহযোগী পার্টিগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি ও নীতি সমন্বয়ের ভিন্নমত থাকায় জোটটি নির্বাচনের পর ভেঙে যায়। এটি চরমোনাই পীরের দলকে একটি সংক্ষিপ্ত স্থায়ী জাতীয় জোটে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছিল, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

 ২০০৮–২০১৮ — স্বাধীন অংশগ্রহণ : ২০০৮ সাল থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়। জোটে না থাকায় দল বড় ভোট‑শেয়ার অর্জন করতে পারেনি, তবে ইসলামী চিন্তাধারার সমর্থকদের মধ্যে তাদের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। এই সময়ে দল প্রধানত আন্দোলনভিত্তিক এবং স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল।

 ২০২২–২০২৫ — ছোট ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোট প্রচেষ্টা : ২০২২ থেকে দলটি ছোট ইসলামি দলের সঙ্গে ভোট‑সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এতে খেলাফত মজলিশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টি ও অন্যান্য ছোট ইসলামি দল জড়িত ছিল। প্রাথমিক আলোচনা এবং সমঝোতা হলেও কোনো স্থায়ী জাতীয় জোট গড়ে ওঠেনি।

 ২০২৫–২০২৬ — জামায়াতে ইসলামীসহ সম্ভাব্য জোট: ২০২৫ সালের দিকে চরমোনাই পীরের দল জামায়াতে ইসলামীসহ বড় ইসলামি দলের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে। এই জোটে অংশগ্রহণ স্থগিত বা অনিশ্চিত থাকে প্রধানত আসন ভাগাভাগি এবং নীতি সমন্বয়ের অভাবের কারণে। চরমোনাই পীরের দল স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিলেও জোটের চূড়ান্ত রূপ এখনও হয়নি।

 সমন্বয় ও ভাঙনের কারণ: ইতিহাস দেখায়, চরমোনাই পীরের দল জোটে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বদা কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। প্রধান সমস্যা ছিল আসন ভাগাভাগি,  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দলীয় নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে  নীতি সমন্বয়ের অভাব এবং বিভিন্ন নেতার স্বার্থের সংঘর্ষ। ফলে জোট গঠন এবং তা স্থায়ীভাবে কার্যকর রাখা তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছিলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন