ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিবির চার্জশিটে হাদির পরিবারের আপত্তি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যা মামলায় ডিবি পুলিশের দেওয়া চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের নারাজি আবেদন দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে তার আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর নারাজির আবেদন গ্রহণ করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, পুলিশের চার্জশিট শুধু তদন্ত কর্মকর্তার জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছে, এতে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের সম্পর্ক উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, হাদি কোনো সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না; তাকে হত্যা করার একটি বড় পরিকল্পনা ছিল এবং প্রকাশ্যভাবে গুলি করা হয়েছে।

আইনজীবীর অভিযোগ, চার্জশিটে একটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা “হাস্যকর” এবং হত্যার প্রকৃত পরিকল্পনাকারীকে আড়াল করে।

গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ১২ জানুয়ারি বাদী আদালতে হাজির হয়ে চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় নেন। আদালত চার্জশিট গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে ১৫ জানুয়ারি শুনানি ধার্য করেন।

চার্জশিটের প্রধান আসামিরা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, সহযোগী আলমগীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার। তারা পলাতক।

বাকি ১১ আসামি কারাগারে আটক রয়েছেন। এছাড়া পলাতক ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হাদি অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১২ ডিসেম্বর দুপুরে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে হামলাকারীরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় হাদিকে ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

হত্যাচেষ্টার মামলাটি ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় দায়ের করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন