ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াত–চরমোনাই সমঝোতা ব্যর্থ, জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে থাকছে না চরমোনাইয়ের পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গত এক সপ্তাহ ধরে দফায় দফায় বৈঠক ও আলোচনার পর ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কমপক্ষে ৮০টি আসন না ছাড়লে তাদের পক্ষে জোটে থাকা সম্ভব নয়।

এই অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনকে বাদ দিয়ে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠকে বসে। ওই বৈঠকের পর খেলাফত মজলিসের একাংশের আমীর মাওলানা মামুনুল হক পুনরায় চরমোনাইয়ের পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আসন বণ্টন নিয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালান। তবে তার এই উদ্যোগ সফল হয়নি। পরে গভীর রাতে তিনি পুরো পরিস্থিতি জামায়াতে ইসলামীর একজন শীর্ষ নেতাকে অবহিত করেন। জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—তাদের পক্ষে আর জোটে থাকা সম্ভব নয়।

চরমোনাইয়ের পীরের দল জোটে না থাকলেও বাকি সব শরিক দল জোটে থাকার বিষয়ে একমত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক নেতা। এর ফলে ১১ দলীয় জোট এখন কার্যত ১০ দলীয় জোটে পরিণত হচ্ছে। এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আজ দুপুরের মধ্যেই জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর গতকাল স্থগিত হওয়া সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

খেলাফত মজলিসের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জোটের অন্য শরিকরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নতুন করে কিছু আসনে সমন্বয় বা বিন্যাস হতে পারে, তবে এতে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হবে না।

জোটের একাধিক নেতা জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে। এনসিপির অন্তর্ভুক্তিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেনি দলটি। এরপর ইসলামী আন্দোলন দাবি করে, তাদের অন্তত ১৪৩টি আসনে বিজয়ের মতো সমর্থন রয়েছে এবং তারা এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের আসনেও প্রার্থী দিতে চায়।

প্রথমে ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৪০টি আসন ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা পরে বাড়িয়ে ৪৫টিতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬ থেকে ৭টি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে দলটি ৮০টি আসনের দাবিতে অনড় থাকে। জোটের অন্যান্য শরিকরা চরমোনাইয়ের পীরকে বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষেও ৮০টি আসন ছাড় দেওয়া সম্ভব ছিল না। এতে একদিকে সম্ভাবনাময় আসন হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতো, অন্যদিকে অন্য শরিক দলগুলোর কাছ থেকেও অতিরিক্ত আসন দাবির চাপ বাড়ত। এই প্রেক্ষাপটে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার শেষ চেষ্টা করা হলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।

ফলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে ২৬৬টি আসনে এককভাবে নির্বাচন করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন