ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শঙ্কা

ইরানে চলমান বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালানো হবে—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, যেসব দেশে মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, তাদের আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ওয়াশিংটন ইরানে হস্তক্ষেপ করলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এদিকে তিন মার্কিন কূটনীতিক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের একটি প্রধান মার্কিন বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মীকে সরে যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গত বছর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে যেভাবে ব্যাপক সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছিল, এবার তেমন কোনো বড় ধরনের সরিয়ে নেওয়ার আলামত দেখা যায়নি। কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মীর ‘পজিশন পরিবর্তন’ করা হয়েছে বলেও জানান তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন। মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া’ দেখাবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানিদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে অন্তত ২,৬০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ২,৪০৩ বিক্ষোভকারী ও ১৪৭ জন সরকারপন্থীর মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে। তবে এক ইরানি কর্মকর্তার দাবি, মোট নিহতের সংখ্যা প্রায় ২,০০০।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা জানান, উত্তেজনা কমাতে তেহরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত রাখতে তাদের অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থগিত হয়েছে।

এদিকে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে সম্ভাব্য সরকার পতন বা যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে ব্রিফ করেছেন। উল্লেখ্য, গত বছর ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যায়ে জড়িয়ে পড়ে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। ইরান দাবি করেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে তুলেছে এবং বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। প্রধান বিচারপতি দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন। এইচআরএএনএর তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ১৮,১৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরও মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন