নাইজেরিয়ার লাগোস শহরের এক প্রান্তে, রোদে ঝলসানো ফুটপাথে দাঁড়িয়ে থাকত এক ক্ষীণকায় শিশু হাতে পানির বোতল, চোখে শুধুই টিকে থাকার লড়াই। সেই ছেলেটিই আজ ভিক্টর ওসিমেন যার নাম শুনলে কাঁপে বিশ্বের নামী ডিফেন্ডাররা।
ওসিমেনের শৈশব ছিল নির্দয় বাস্তবতায় ঘেরা। খুব অল্প বয়সেই বাবা–মাকে হারিয়ে জীবনের ভার এসে পড়ে নিজের কাঁধে। স্কুল শেষে ফুটবল নয়, রোজগারের তাগিদে নামতে হতো রাস্তায়। পানি বিক্রি ভালো হলে রাতের খাবার জুটত, না হলে ক্ষুধাই ছিল সঙ্গী। ফুটবল তখন বিলাসিতা তবু সেটাই হয়ে ওঠে তার মুক্তির পথ। বলের পেছনে দৌড়ানো মানেই কষ্ট থেকে সাময়িক নিস্তার।
প্রতিভা চাপা থাকে না। অল্প সময়েই তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। নাইজেরিয়ার বয়সভিত্তিক দলে সুযোগ পেয়ে ২০১৫ অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে গোলের বন্যা বইয়ে দেন ওসিমেন। গোল্ডেন বুট জিতে বিশ্বমঞ্চে জানান দেন এই নামটা মনে রাখুন।
তবে সংগ্রাম এখানেই শেষ নয়। ইউরোপে পা রেখেই আসে বড় ধাক্কা মুখে ভয়ংকর চোট। মাস্ক পরে খেলতে হয়। অনেকে থেমে যেত, তিনি থামেননি। ফিরে আসেন আরও দৃঢ় হয়ে।
নাপোলিতে গিয়ে জীবনের মোড় ঘুরে যায়। ৩৩ বছর পর ক্লাবকে এনে দেন ঐতিহাসিক লিগ শিরোপা। শহরের দেয়ালে আঁকা হয় তার মুখচ্ছবি, উচ্চারিত হয় নায়কের নাম। তিনি হয়ে ওঠেন নাপোলির প্রতীক।
আজ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে নাইজেরিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা ওসিমেন। গোল করেন, নিরলস প্রেসিং দেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দৌড়ান দলের জন্য। তিনি কেবল গোলদাতা নন দলের মানসিক শক্তি, কঠিন সময়ে সামনে দাঁড়ানো একজন নেতা।
জাতীয় দলের জার্সিতে তার গোলসংখ্যা ছুঁয়েছে ৩৫। কিংবদন্তি রশিদি ইয়েকিনির রেকর্ড চোখের সামনে। তবু সংখ্যার চেয়েও বড় কিছু তার কাছে একটি দেশকে স্বপ্ন দেখানো।
মাঠে নামার আগে ওসিমেন আজও ফিরে তাকান অতীতে। মনে পড়ে সেই তপ্ত রোদ, পানির বোতল, ক্ষুধার দিনগুলো। হয়তো সেখান থেকেই আসে তার অদম্য মানসিকতা। তাই তো রাস্তায় পানি বিক্রি করা ছেলেটি আজ নাইজেরিয়ার ফুটবলের রাজা হার মানা যার অভিধানে নেই।




