ঢাকা | সোমবার
২রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৯শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপিতে বিদ্রোহীদের দাপট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময় ক্রমশ ঘনিয়ে আসছে, তবুও দেশের অন্তত ৬০টি আসনে শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে বা পদত্যাগ করতে হয়েছে, তবু তারা নির্বাচনে অব্যাহত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাইকমান্ড পক্ষ থেকে তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করার জন্য চেষ্টা করা হলেও এখনো অনেকেই দলের নির্দেশনা মানছেন না।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ প্রায় সব বিভাগের মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা রয়েছেন। এটি দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনি কৌশলের ওপর প্রশ্ন তোলে। দলীয় দায়িত্বশীল নেতারা জানান, শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক আসনে একজন প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। যেসব প্রার্থী দলের নির্দেশনা মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দশজন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে, আর ছয়জন প্রার্থী তারেক রহমানের অনুরোধে নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।

বরিশাল থেকে কুমিল্লা, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মাঠে রয়েছেন। দলীয় হাইকমান্ড তাদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বরিশাল বিভাগের কিছু সমস্যা ইতিমধ্যেই সমাধান হয়েছে। তবে এখনও কিছু প্রার্থী নির্বাচনে স্থির অবস্থানে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে অংশ নেবেন বলে জানানো হয়েছে। ঢাকা-৮-এর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব এবং পটুয়াখালী-৩-এর স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তারা দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপি হাইকমান্ডের লক্ষ্য, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব আসনে দলীয় প্রার্থীকে এককভাবে নিশ্চিত করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন