ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএসইসির নতুন রুলস: আইপিওতে কার্টেল ও কারসাজির দিন শেষ

শেয়ারবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন এবং আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফেরাতে ‘পাবলিক ইস্যু রুলস’ চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই বিধিমালা কার্যকর হলে শেয়ারদর যৌক্তিক থাকবে এবং কারসাজির সুযোগ কমবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আসা ২২০টি মন্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই খসড়া রুলসটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন এই বিধিমালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শেয়ারবাজারে আইপিও নিয়ে চলা সিন্ডিকেট বা ‘কার্টেল’ প্রথা ভেঙে দেওয়া। এখন থেকে কোনো প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠী গোপন সমঝোতার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম প্রভাবিত করতে পারবে না। এছাড়া, কোনো বিনিয়োগকারী যদি নিজের আর্থিক সক্ষমতার বাইরে গিয়ে বড় অংকের শেয়ার কেনার ভুয়া প্রস্তাব দেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা পেনাল প্রভিশনের বিধান রাখা হয়েছে। বিএসইসির মতে, পূর্বের তথাকথিত বুক বিল্ডিং পদ্ধতি ছিল মূলত ফিক্সড প্রাইসের একটি রূপান্তর, যা থেকে কমিশন এবার পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে।

বিএসইসি মুখপাত্র আরও জানান, আইপিও প্রক্রিয়ায় এখন থেকে ‘মেরিট’ বা যোগ্যতা, সরেজমিনে পরিদর্শন এবং স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি চাইলে যেকোনো একটি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হতে পারবে, যা আগে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি এক্সচেঞ্জেই করতে হতো। এছাড়া, বিএসইসির গঠিত টাস্কফোর্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও মার্জিন রুলস সংস্কারের পর এখন আইপিও বিধিমালা নিয়ে কাজ শেষ করল। আগামীতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স এবং অডিটর প্যানেল নিয়েও সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হবে।

শেয়ারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন থেকে ইস্যু ম্যানেজার ও কোম্পানিকে গাণিতিক ও যৌক্তিক ভ্যালুয়েশনের মাধ্যমে ‘ইন্ডিকেটিভ প্রাইস’ প্রমাণ করতে হবে। শুধু দাম ঘোষণা করলেই চলবে না, রোডশোর মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অন্তত ৪০ শতাংশ চাহিদার ভিত্তিতে সেই দামের সত্যতা যাচাই বা ভ্যালিডেশন নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে অতীতে দরকষাকষির মাধ্যমে দাম নির্ধারণের যে ‘নৈতিক ঝুঁকি’ ছিল, তা নিরসন হবে বলে আশা করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এই সংস্কারের ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রকৃত বাজারনির্ভর ও বিশ্বাসযোগ্য একটি আইপিও প্রক্রিয়া পাবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন