ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলদেশের ভিসা প্রদানে নতুন নির্দেশনা জারি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশি নাগরিকদের চলাচল আরও কঠোর নজরদারির আওতায় আনছে সরকার। এ লক্ষ্যেই বিদেশিদের বাংলাদেশে প্রবেশ, অবস্থান ও প্রস্থান নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সব ধরনের ভিসা প্রদানে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৫ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়। উপ-সচিব মো. শফিকুল ইসলামের সই করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং আগমনী ভিসাসহ (অন অ্যারাইভাল ভিসা) সব ধরনের ভিসার ক্ষেত্রেই এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশনায় বিদ্যমান ভিসা নীতিমালা ২০০৬ এবং পরবর্তীতে জারি হওয়া সব প্রজ্ঞাপনের শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে ভিসা দিতে হবে এবং আবেদনকারীর সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিনা ভিসায় আগত বিদেশিদের ক্ষেত্রে ২০১৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর জারি করা পরিপত্র অনুসরণ করে আগমনী ভিসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে আগমনের উদ্দেশ্য, স্পন্সরকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, হোটেল বা আবাসস্থলের তথ্য, ফিরতি টিকিটসহ সব নথি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো ধরনের অসংগতি বা সন্দেহ দেখা দিলে অন অ্যারাইভাল ভিসা না দেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

এদিকে বিদেশি সামরিক বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের বাংলাদেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগের তুলনায় নজরদারি আরও জোরদার করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৬ সালের গণভোট পর্যবেক্ষণে আগত বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রয়োজনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে নির্ধারিত নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ’ লেখা সিলসহ আগমনী ভিসা প্রদান করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সুপারিশে পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফের সুযোগও রাখা হয়েছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ স্থল ও নৌবন্দরে বিদেশিদের আগমন ও প্রস্থানের সময় স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সবশেষে বলা হয়েছে, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, স্থল ও নৌবন্দর থেকে বিদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদান ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রতিদিন এক্সেল ফরমেটে ই-মেইলের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন অনুবিভাগ) বরাবর পাঠাতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন