ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চব্বিশের আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা এমন একটি নির্বাচন চান যেখানে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন এবং ভোটের প্রকৃত প্রতিফলন ফলাফলে দেখা যাবে।

এজন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বুথে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই হবে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নির্বাচন সব সমস্যার চূড়ান্ত সমাধান নয়, তবে এটি একটি শুরু। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে। জামায়াতে ইসলামী কোনো বোঝাপড়ার নির্বাচন চায় না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের মতো সাজানো বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা নির্বাচন তারা আর দেখতে চান না। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ যদি কারচুপি বা কৌশলগত হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থির সময়ের কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের সংকটকালে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে দেশ গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। তিনি বলেন, আগস্টের ৩, ৪ ও ৫ তারিখে সেনাবাহিনীর ভূমিকা না থাকলে আজকের বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ থাকত না।

চব্বিশের আন্দোলনে সব দল-মতের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই পরিবর্তন বা গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব জামায়াতে ইসলামী দল হিসেবে কখনো দাবি করেনি। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই এবং সেই ইতিহাস চিরকাল অক্ষুণ্ন থাকবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রকৃত অর্থে ভোট হয়নি, মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে তারা আশাবাদী। ভোটারদের জন্য বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভোটের সঠিক প্রতিফলন ফলাফলে পাওয়াই সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল শর্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী সবচেয়ে নির্যাতিত দল ছিল। আন্দোলন দমাতে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হলেও জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি বলেন, তারা দল রক্ষার জন্য নয়, দেশ ও জাতি রক্ষার জন্য সংগ্রাম করেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, হাতে সময় খুব কম। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়েছি—এবার তোমরা ভোট দেবে, আমরা তোমাদের ভোট পাহারা দেব। এটি পুরো জাতির দায়িত্ব।’

শেষে জামায়াত আমির বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে তরুণদের কর্মসংস্থান হবে, দুর্নীতি বন্ধ হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য শুধু দলীয় বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের মুক্তি ও জাতির সম্মিলিত বিজয় নিশ্চিত করা।

সংবাদটি শেয়ার করুন