ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে জনতার বিক্ষোভ

ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সমর্থনে ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন প্রদেশে লক্ষাধিক মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে তেহরানসহ অধিকাংশ প্রদেশে সমাবেশ শুরু হলেও বেশ কিছু প্রদেশে সকাল ৯টা থেকেই কর্মসূচি শুরু হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীরা ‘মৃত্যু আমেরিকার’, ‘মৃত্যু ইসরাইলের’ স্লোগানেই পাশাপাশি অনেককে ‘আল্লাহর শত্রুদের মৃত্যু হোক’ বলেও স্লোগান দেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত লাইভ ফুটেজে দেখা গিয়েছে, সেমনান প্রদেশের শাহরুদ শহরে নিহত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজা ও শোক মিছিলেও বিপুল জনসমাগম হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হওয়া ‘সন্ত্রাসী ঘটনার নিন্দা’ জানাতে কেরমান, জাহেদান ও বিরজান্দসহ বিভিন্ন শহরে সরকারপন্থী বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকান-জায়নবাদী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ইরানি গণঅভ্যুত্থান’ বলে রাষ্ট্রীয় ও সরকারঘনিষ্ঠ সম্প্রচারমাধ্যমগুলো এই সমাবেশগুলোকে প্রচার করেছে।

সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয় গত মাসে অর্থনৈতিক ইস্যুতে কয়েকটি শহরে কিছু দোকানদার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু করে। কিন্তু ইসরাইল সমর্থিত ফারসি ভাষার গণমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরকারের কয়েকজন ব্যক্তির প্রকাশ্য বক্তব্য জোরালোভাবে প্রচার করার পর পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে মোড় নেয়।

অর্থনৈতিক অভিযোগগুলোর বৈধতা স্বীকার করেছে ইরানের কতৃপক্ষ। ইরান কতৃপক্ষ সম্যাসা গুলো সমাধানের অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ জানায়, ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তেল রপ্তানি উপরে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অবস্থা তৈরী হয়েছে। জনগণের জীবনযাত্রা সংক্রান্ত উদ্বেগেরই সুযোগ নিয়েছে বিদেশি মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো। তাদের দাবি অস্থিরতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সরকারের সমর্থন রয়েছে।

ইরান কতৃপক্ষের দাবি যে একদম ভুল নয় তা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর বক্তব্যে বোঝা যায়। ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের’ ক্ষতি হলে ওয়াশিংটন ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর ব্যক্তবেও মোসাদের সম্পৃক্ততা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

গত শুক্রবার ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘দেশ ভাঙচুরকারীদের কাছে মাথানত করবে না’। তিনি মানুষদের শত্রুর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোবার টেলিভিশন সাক্ষাতকারে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেন, দেশবাসীকে দাঙ্গাকারীদের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। প্রতিবাদ আর দাঙ্গা এক বিষয় নয়। বেসামরিক নাগরিক হত্যা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরো বলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাঙ্গাকারীদের প্রশিক্ষণ ও সমর্থন দিচ্ছে।

ইরান শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার স্বীকার করে, তবে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেবে এমন মন্তব্য করেছেন সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।

বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে এবং রক্তপাত ও ভাঙচুরে জড়িতদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে ইরানের বিচার বিভাগ ।

সোমবার তেহরানের এক সমাবেশে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ আলি আব্বাসি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি আজ এখানে আমাদের শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান জানাতে এবং আমাদের নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে বলতে এসেছি—আমরা আমেরিকান ও জায়নবাদীদের নোংরা যুদ্ধকে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে সফল হতে দেব না।’

আরেক বিক্ষোভকারী ফাতেমেহ বলেন, ‘আমরা যেকোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করি। আমাদের অর্থনৈতিক কষ্ট রয়েছে এবং আমরা আমাদের দাবি তুলতে থাকব, কিন্তু বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের ওপর কিছু চাপিয়ে দেবে—তা আমরা মেনে নেব না।’
অনেক অংশগ্রহণকারী বলেন, অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ বৈধ।

বিক্ষোভকারীদের মতে, তারা অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতি সমস্যার সমাধান দেশের মধ্যে থেকে চান, হাজারো ইরানির রক্তে রঞ্জিত বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের থেকে নয়। তারা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও ইসলামি বিপ্লবের নেতার পাশে আছেন এবং শত্রুপক্ষকে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেবেন না।

সংবাদটি শেয়ার করুন