ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পিলখানা হত্যাকাণ্ড: নতুন তদন্ত ও পুনর্বিচারের দাবি উঠেছে

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে নতুন করে বিচার শুরু এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবিটি তোলা হয়।

বক্তারা বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড দেশের ইতিহাসের একটি ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। ওই ঘটনায় নিহত সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার ও ক্ষতিগ্রস্তরা আজও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতারা এখনও আড়ালে রয়েছেন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সত্য উদঘাটিত হয়নি।

আলোচনায় বলা হয়, ঘটনার পর পরিচালিত বিচার কার্যক্রমে অসঙ্গতি এবং প্রশ্ন থেকে গেছে। সাক্ষ্য, আলামত ও তদন্তের ধারাবাহিকতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। বক্তারা জানান, এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং এর পেছনে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল, যা পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া উদঘাটন করা সম্ভব নয়।

এছাড়া বক্তারা দণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুতদের আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির বিষয়টি বিচারপ্রক্রিয়ায় বিবেচনায় আনা হয়নি বলেও উল্লেখ করেন। অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের দাবি, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরপরাধ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া।

বক্তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের ভূমিকা প্রকাশ, দ্রুত শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনদাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন মো. জহুরুল ইসলাম জহুর (সভাপতি, অধিনায়কের সামারি কোর্ট বিডিআর-২০০৯), মো. জাহাঙ্গীর আলম (সাধারণ সম্পাদক, অধিনায়কের সামারি কোর্ট বিডিআর-২০০৯) এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন