ঢাকা | মঙ্গলবার
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
২০শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কারাবন্দি অবস্থায় আ.লীগ নেতা প্রলয় চাকীর মৃত্যু

পাবনা জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে আশির ও নব্বই দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রলয় চাকী (৬৬) মারা গেছেন।রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

তবে প্রলয় চাকীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলা ও যথাযথ চিকিৎসা না দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তার পরিবার।

কারা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর সকালে পাবনা শহরের পাথরতলা এলাকার নিজ বাড়ি থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

প্রলয় চাকীর ছেলে অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পরও তাকে সিসিইউতে না রেখে হাসপাতালের সাধারণ প্রিজনার সেলে রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসার পরিবর্তে তাকে বিভিন্ন কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল, যা তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটায়। পরিবারের দাবি, কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন।

স্বজনদের আরও দাবি, প্রলয় চাকী ওই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। মামলা দায়েরের প্রায় এক বছর পর তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে, পাবনা জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওমর ফারুক প্রলয় চাকীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তিনি ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি হঠাৎ স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে দ্রুত পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাতে তার মৃত্যু হয়।

জেল সুপার পরিবারের আনা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রলয় চাকী ছিলেন দেশের একজন বরেণ্য সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ও তার ভাই মলয় চাকী বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ও ‘ইত্যাদি’সহ বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তার মৃত্যুতে পাবনার সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন