ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১১ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেন।
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)-এর তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে। এ বিষয়ে ইরান কি সীমা লঙ্ঘন করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে থাকা ট্রাম্প বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, তারাই (ইরান) এটা শুরু করেছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও নজরদারিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, “আমরা খুব কঠিন কয়েকটি বিকল্প বিবেচনায় রাখছি। সময়মতো একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এদিকে, ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার পরামর্শ দিয়ে জানায়, ওয়াশিংটনের হামলার জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এইচআরএএনএ-এর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিহতদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। তবে রয়টার্স এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। গত বৃহস্পতিবার থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘দাঙ্গাবাজদের’ সমাজ অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, প্রতিবাদ জনগণের অধিকার। রোববার তিনি বলেন, “জনগণের বিশ্বাস করা উচিত যে সরকার ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়।”
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে পড়েছে ইরান। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন।
চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন। ইরানি নেতৃত্বকে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের ‘সহায়তা দিতে প্রস্তুত’।




