ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিক্ষোভকারীরা ‘আল্লাহর শত্রু’, আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড

ইরানে বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন ইসলামপন্থি সরকার। মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে বলে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে বিক্ষোভে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের। শনিবার ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে প্রদান করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য বলা হয়েছে।

বিবৃতি অনুযায়ী সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা মতে বিক্ষোভকারীদের আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র। সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো গোষ্ঠী কিংবা সংগঠন যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অবস্থান গ্রহণ করে তাহলে ওই গোষ্ঠীর বা সংগঠনের সব সদস্যকে মোহারেব বা আল্লাহর শত্রু বলে ঘোষণা করে। ইরানের সংবিধানে আল্লাহর শত্রুদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রা ইরানি রিয়েল। অর্থনীতির এই অজুহাতকে কাজ লাগিয়ে আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের। ইরানে এখন এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল। জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে।

ইরানের সাধারণ জনগণ খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীদের ডাকা ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।

মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে রাজধানী তেহরানের সেই বিক্ষোভ ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও তত তীব্র হচ্ছে।

বিক্ষোভ দমাতে তৎপর ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামপন্থি সরকার। রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব শহরে মোতায়েন করা হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং গতকাল শনিবার থেকে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনীর অভিযাত শাখা ইসলামিক রিপাবলিক গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) নামানো হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন