লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহর বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আসামি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গোপন বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার সিন্দুর্না এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আমজাদ হোসেন তাজূরের বাসভবনে এই ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেন তাজু ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লালমনিরহাট-১ আসনে আওয়ামী লীগের ডামি প্রার্থী ছিলেন এবং বর্তমানে একাধিক মামলার আসামি। অভিযোগ ওঠেছে, ওই রাতে তার বাড়িতে ‘দাওয়াতের’ আড়ালে অন্তত ৬ জন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বৈঠকে অংশ নেন এবং সেখানে হাতীবান্ধা থানার ওসিও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে বাড়ির সামনে জড়ো হতে শুরু করলে ওসি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
একটি সূত্র জানায়, ওই অনুষ্ঠানে জেলা বা উপজেলার বাইরে কর্মরত প্রশাসনের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। ঘটনা নিয়ে জানতে ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে আমজাদ হোসেন তাজূর স্ত্রী শাপলা আক্তার দাবি করেছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বৈঠক নয়, বরং একটি পারিবারিক দাওয়াত ছিল।
লালমনিরহাটের সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) জয়ন্ত কুমার সেন বলেন, ওই বাড়িতে পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন। তাকে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে ওসি শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহও সেখানে উপস্থিত হন। পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, ওসি নতুন যোগদান করেছে এবং দাওয়াত খাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়; তিনি আসামির খোঁজ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন।
লালমনিরহাট-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে পুলিশের এমন উপস্থিতি দুঃখজনক এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।




