ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে তীব্র সরকারবিরোধী বি’ক্ষো’ভ

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে টানা দুই রাত ধরে তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তেহরানের একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ব্যবহৃত পতাকা উড়িয়ে বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তেহরানের লাদান নামের এক নারী দ্বিতীয় রাত রাস্তায় নেমেছিলেন, আর সাদা’ত আবাত নামে এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, মসজিদে আগুন লাগানোর দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

শুক্রবার রাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মাসহাদ, তাবরিজ, উরুমিয়াহ, ইস্ফাহান, কারাজ এবং ইয়জদে। বিবিসি ফার্সির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন এবং সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পাশাপাশি শাহ শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে স্লোগান দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টিভিতে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নিতে সতর্ক করা হয় এবং বাবা-মায়েদের বলা হয়, সন্তানদের বিক্ষোভে পাঠালে কোনও ক্ষতি হলে অভিযোগ করবেন না।

সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তেহরানের আমির রেজা নামে এক প্রকৌশলী জানিয়েছেন, তিনি গুলি ও সাউন্ড বোমার শব্দ শুনেছেন এবং সিভিল পোশাকে থাকা নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের সরাতে আকাশের দিকে গুলি চালায়। এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয় ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের গ্র্যান্ড বাজার থেকে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রথমে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু করেছিলেন। কিন্তু দ্রুত বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয় এবং ১৩ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনে শুধুমাত্র তেহরানে গত বৃহস্পতিবার ২০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা অব্যাহত রাখে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র শক্তিশালী হামলা চালাতে পারে এবং ইরান এই মুহূর্তে বিপদে রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন