বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান আশা প্রকাশ করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নীতি অমান্য করে প্রার্থী হওয়া সদস্যরা শেষ পর্যন্ত দলের নির্দেশ মেনে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদেরকে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি কেউ না মানে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
শেরেবাংলা নগরে শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর এই মন্তব্য করেন নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, “বৃহৎ দলের জন্য যোগ্য প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। অনেকে মনে করেছেন যে দল তাদের মনোনয়ন দিলে ভালো হতো, তাই স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রার্থী হয়েছেন। তবে প্রত্যাহারের সময় এখনও শেষ হয়নি। আমরা আশা করি, তারা দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্যাহারের খবর পেয়েছি। যাদের বাকি থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানকে রেখে গেছেন। তিনি দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, সেখান থেকেই তিনি শুরু করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে তিনি দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। আমরা আশা করি গণমাধ্যমসহ সবাই এই কাজে সহযোগিতা করবে।”
নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে এবং শীঘ্রই তা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন (জকসু) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বছরের পর বছর আমাদের ছাত্র সংগঠন কার্যকরভাবে কাজ করতে পারেনি। অন্য একটি সংগঠন দীর্ঘ সময় সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে কাজ করেছে, যার ফল তারা এখন ভোগ করছে। আমরা সেই কৌশলকে সমর্থন করি না। এটি একটি রূপান্তরমূলক সময়ের নির্বাচন, শেষ নয়।”
এর আগে নজরুল ইসলাম খান ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’ (বিএমসিএস) আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। পরে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। উপস্থিত ছিলেন বিএমসিএস-এর সভাপতি মারুফা রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।




