ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বোলারদের দাপটে কাবু রাজশাহী: শেষ বলে জয় নিশ্চিত করল চট্টগ্রাম

একাদশ সাজানো আর মাঠে নামা, দুই ক্ষেত্রেই যেখানে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই শুনতে হয়েছে নানা সমালোচনা, সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিল বন্দরনগরীর দলটি। বিপিএলের ১৯তম ম্যাচে লো-স্কোরিং থ্রিলারে শেষ পর্যন্ত ঠান্ডা মাথার ক্রিকেট খেলেই জয় তুলে নেয় চট্টগ্রাম।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে শুরুতেই ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান।

শুরুটা যদিও রাজশাহীর জন্য আশাব্যঞ্জক ছিল, তবে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমের উইকেট হারানোর পরই ছন্দপতন শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ওয়ারিয়র্সরা। নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলে বড় সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজশাহীর।

দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও এসএম মেহরব। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও রায়ান বার্ল দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া আকবর আলী ১৬ বলে ১৭ রান করে কিছুটা দৃঢ়তা দেখান। শেষদিকে তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে অপরাজিত ১৪ রান যোগ করলেও তাতে খুব একটা পার্থক্য গড়ে ওঠেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৮ রান।

চট্টগ্রামের বোলিংয়ে ছিলেন নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক। আমের জামাল মাত্র ২৩ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলাম দুজনেই শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামও শুরুতেই ধাক্কা খায়। নাঈম শেখ, মাহমুদুল হাসান জয় দ্রুত ফেরেন, আর সাদমান ইসলাম গোল্ডেন ডাকে আউট হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করেন। অ্যাডাম রসিংটন দুই অঙ্কে পৌঁছালেও ইনিংস দীর্ঘ করতে ব্যর্থ হন। চাপের মুখে অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ২৫ বলে ২৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেললেও তার বিদায়ের পর ম্যাচের দায়িত্ব পড়ে হাসান নওয়াজ ও আসিফ আলীর কাঁধে।

দুই পাকিস্তানি ব্যাটারের দৃঢ়তায় ম্যাচে টিকে থাকে চট্টগ্রাম। আসিফ আলী ২৫ বলে ২৭ রান করে বিদায় নিলেও অন্য প্রান্তে শান্ত ও হিসেবি ব্যাটিং করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন হাসান নওয়াজ। তিনি ৩৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে শেষ বলে নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের দাপুটে জয়।

এই জয়ের ফলে ৭ ম্যাচে ৫টি জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান আরও মজবুত করল চট্টগ্রাম রয়্যালস।

সংবাদটি শেয়ার করুন