ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোদির ফোন না করাতেই থেমে গেল ভারত–মার্কিন চুক্তি

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিন আলোচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যাওয়ার নেপথ্যের কারণ প্রকাশ্যে এনেছেন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক শীর্ষ পর্যায়ের যোগাযোগের অভাবই এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

জনপ্রিয় মার্কিন পডকাস্ট ‘অল ইন’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুটনিক জানান, চুক্তির প্রায় সব শর্তই তখন চূড়ান্ত ছিল। আলোচনার টেবিল প্রস্তুত, কাঠামো নির্ধারিত—সবই শেষ। শুধু প্রয়োজন ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি ফোন কল।

লুটনিক বলেন, এই চুক্তিটি মূলত ট্রাম্পের নিজস্ব উদ্যোগে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। সে কারণেই তিনি ভারতীয় পক্ষকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন—মোদিকে সরাসরি প্রেসিডেন্টকে ফোন করতে হবে। তবে ভারতীয় নেতৃত্ব এতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেনি এবং শেষ পর্যন্ত সেই ফোন কল আর আসেনি।

তিনি আরও জানান, ভারতকে তিন সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর যখন ভারতীয় আলোচকেরা পুরোনো শর্তে চুক্তি চূড়ান্ত করতে ওয়াশিংটনে আসেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই শর্ত পরিবর্তন করে ফেলেছিল।

লুটনিকের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে মার্কিন পক্ষ আলোচনা থেকে সরে আসে। তাঁর মতে, ভারত সময়ের গুরুত্ব বুঝতে পারেনি এবং সুযোগ হারিয়েছে।

এই মন্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এলো, যখন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন—রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করতে একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ওই বিল পাস হলে রুশ জ্বালানি তেল কেনা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবে যুক্তরাষ্ট্র।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে ভারতকে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ আরোপ করা হয়েছে রাশিয়ার তেল কেনার কারণে। এসব শুল্ক ভারতের রপ্তানি ও বিনিয়োগ পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

লুটনিক বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চুক্তি কৌশল অনেকটা সিঁড়ির মতো। যারা আগে সিদ্ধান্ত নেয়, তারা বেশি সুবিধা পায়। যুক্তরাজ্য দ্রুত চুক্তি করায় সবচেয়ে ভালো শর্ত পেয়েছে। তাদের পর ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে গেছে।

শেষদিকে লুটনিকের মন্তব্য ছিল আরও কড়া। তিনি বলেন, ভারত যখন অবশেষে আলোচনায় ফিরতে চাইল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তাঁর কথায়, ‘ট্রেন অনেক আগেই স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন