ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তেল ছাড়াও আর যা আছে ভেনেজুয়েলাতে

বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেল মজুতের অধিকারী দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার পরিচিতি থাকলেও, প্রকৃত সম্পদের পরিধি কেবল তেলেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশটির বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডের নিচে সোনা, হীরা ও বিভিন্ন শিল্পোৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিপুল ভাণ্ডার থাকার তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে।

এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক নাটকীয়তার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাত পুনর্গঠনের পাশাপাশি দেশটির খনিজ শিল্পে বড় পরিসরে বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে। লক্ষ্য শুধু তেল উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং দীর্ঘদিন অবহেলিত খনিজ সম্পদকে বৈশ্বিক বাজারে ফিরিয়ে আনা।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, ভেনেজুয়েলায় ইস্পাতসহ বিভিন্ন কৌশলগত খনিজের বিশাল ভাণ্ডার কার্যত অচল হয়ে আছে। অব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির অভাবে এসব সম্পদ মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশাসন এই খাতগুলো পুনরুদ্ধারে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চায়।

ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে সবচেয়ে বড় স্বর্ণভাণ্ডারও ভেনেজুয়েলার দখলে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ১৬১ মেট্রিক টন স্বর্ণ মজুত রয়েছে। পাশাপাশি ‘ওরিনোকো মাইনিং আর্ক’ নামে পরিচিত অঞ্চলে আরও বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত স্বর্ণ থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হয়। ২০১৮ সালের এক খনিজ প্রতিবেদনে দেশটিতে অন্তত ৬৪৪ মেট্রিক টন স্বর্ণ থাকার অনুমান করা হয়েছিল, যদিও সরকারি সূত্রের দাবি, প্রকৃত পরিমাণ এর চেয়েও বেশি।

হীরা উৎপাদনের সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও ভেনেজুয়েলা পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন খনিতে প্রায় ১,২৯৫ মিলিয়ন ক্যারেট হীরার মজুত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির গুরুত্ব আরও বাড়াতে সক্ষম।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের সুযোগে এই খনিজ অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ বর্তমানে রাষ্ট্রবহির্ভূত সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে চলে গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব সম্পদ পুনরুদ্ধার করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি যেমন নতুন প্রাণ পাবে, তেমনি বৈশ্বিক খনিজ বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন