ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাহলভির সঙ্গে বৈঠক যৌক্তিক নয়: ট্রাম্প

ইরানে ক্রমেই জোরালো হয়ে ওঠা সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, চলমান পরিস্থিতিতে এমন বৈঠককে তিনি অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, রেজা পাহলভি ব্যক্তিগতভাবে একজন ভালো মানুষ হলেও বর্তমান বাস্তবতায় তার সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো যৌক্তিকতা নেই। ট্রাম্পের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে—ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনই পাহলভিকে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে আনতে প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং দেখা—এই আন্দোলনের মধ্য থেকে আদৌ কে নেতৃত্বে উঠে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত রেজা পাহলভি ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পুত্র এবং ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। এর আগে তিনি ইরানে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, হোয়াইট হাউস আপাতত পাহলভির সেই প্রস্তাবের প্রতি আগ্রহী নয়। বরং তারা পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে চায়।

এদিকে ইরানে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানি সরকার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ইরানি কর্তৃপক্ষকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর যদি সহিংসতা চালানো হয় বা প্রাণহানি ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্র চুপ থাকবে না। তার ভাষায়, মানুষ হত্যা শুরু হলে আমেরিকা ভয়াবহ প্রতিশোধ নেবে।

অন্যদিকে রেজা পাহলভি ট্রাম্পের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ইউরোপীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা নীরবতা ভেঙে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ান।

বর্তমানে ইরান বহুমাত্রিক সংকটে জর্জরিত। অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ ও পানির সংকটের পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতেও দেশটি চাপে রয়েছে। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন, হিজবুল্লাহর দুর্বলতা এবং ভেনেজুয়েলায় মাদুরোকে আটকের ঘটনায় তেহরান কূটনৈতিকভাবে একঘরে হয়ে পড়ছে। তবুও এসব চাপ উপেক্ষা করে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন—ইরান কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবে না এবং শত্রুদের মাথা নত করতে বাধ্য করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন