ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টানা ছয় হার নোয়াখালীর, সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন সৌম্য

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ইতিহাস গড়ে এবারই প্রথম অংশ নিয়েছে নোয়াখালীর একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে সেই স্বপ্ন এখন হতাশায় ঢেকে গেছে। টুর্নামেন্টে টানা ছয় ম্যাচে হেরে নোয়াখালী একপ্রকার কোণঠাসা অবস্থায় পৌঁছেছে। দলের এমন ভরাডুবিতে সমর্থকদের উদ্দেশে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন ব্যাটার সৌম্য সরকার। একই সঙ্গে জানিয়েছেন, সমর্থকদের মতো খেলোয়াড়রাও ভীষণভাবে হতাশ এবং যেকোনো মূল্যে অন্তত একটি জয় পেতে মরিয়া পুরো দল।

নোয়াখালীর মানুষের কাছে এবারের বিপিএল ছিল বিশেষ আবেগের। প্রথমবারের মতো নিজ জেলার একটি দল মাঠে নামছে এটা ছিল গর্বের মুহূর্ত। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস দ্রুতই শেষ হয়ে গেছে। টুর্নামেন্টের প্রথম ছয় ম্যাচেই হার দেখে সমর্থকদের মনে জমেছে হতাশা। মাঠে যেমন জয় নেই, তেমনি ব্যাটিং-বোলিং দুটো বিভাগেই ধারাবাহিকতার অভাব চোখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে হারের কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সৌম্য সরকার স্পষ্টভাবেই দলের ব্যাটিং ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেন। তার ভাষায়,
‘প্রায় প্রত্যেক ম্যাচেই পাওয়ার প্লেতে তিনটা করে উইকেট চলে যাচ্ছে, আবার রানও হচ্ছে না। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। শুরুতেই যদি দল চাপে পড়ে যায়, তাহলে ম্যাচে ফেরা খুব কঠিন হয়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, একের পর এক হার দলের আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলছে, ফলে অনেক কিছুই আর অনুকূলে থাকছে না।

টানা ছয় হারের পরও হাল ছাড়তে নারাজ নোয়াখালীর খেলোয়াড়রা। অন্তত একটি জয় দিয়ে টুর্নামেন্টে ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান সৌম্য। তিনি বলেন, ‘এখানে সবাই একটা ম্যাচ জেতার জন্য মরিয়া। সবাই চেষ্টা করছে, সবাই নিজের সেরাটা দিতে চায়। কিন্তু কোনো কারণে সেটা কাজে লাগছে না।’ তার মতে, একটি জয়ই বদলে দিতে পারে দলের মোমেন্টাম এবং মানসিক অবস্থান।

সব ম্যাচ সিলেটে হলেও সুদূর নোয়াখালী থেকে অনেক সমর্থক মাঠে এসে দলকে সমর্থন দিচ্ছেন। আবার অনেকে টিভি ও মোবাইলের পর্দায় চোখ রেখে আছেন। কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না আসায় সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন সৌম্য।

তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য আমাদের খুব খারাপ লাগে। তারা এত কষ্ট করে খেলা দেখতে আসে, আর আমরা তাদের আনন্দ দিতে পারছি না। এজন্য আমরা সত্যিই দুঃখিত।’
সমর্থকদের উদ্দেশে আশ্বাস দিয়ে তিনি যোগ করেন, দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই ব্যর্থতা ব্যাটারদেরই ব্যর্থতা হিসেবে মেনে নিচ্ছেন তারা।

টানা ছয় হারের ফলে প্লে-অফের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে নোয়াখালীর। তবে সৌম্য জানালেন, আপাতত বড় হিসাব নয় দলের একমাত্র লক্ষ্য এখন প্রথম জয় পাওয়া।
তার কথায়, ‘এখন মূল চিন্তা একটাই আগে একটা ম্যাচ জিততে হবে। মোমেন্টাম আসুক, এরপর পরেরটা পরের চিন্তা।’

সংবাদটি শেয়ার করুন