ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইংরেজি জেনেও যে কারণে স্প্যানিশ ছাড়া কথা বলেন না মেসি

ফুটবলের গণ্ডি পেরিয়ে লিওনেল মেসি আজ এক বৈশ্বিক আইকন। মাঠের নৈপুণ্য, রেকর্ড আর ট্রফির বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব, আচরণ ও সিদ্ধান্ত বারবার আলোচনায় আসে। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ইউরোপ জয় করে এখন মার্কিন মঞ্চে দাপট দেখাচ্ছেন। তবে এত জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার থাকা সত্ত্বেও একটি বিষয়ে তিনি বরাবরই ব্যতিক্রম ইংরেজি ভাষা ব্যবহারে অনীহা।

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে অসংখ্য সতীর্থ, কোচ ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়েছে মেসিকে। কিন্তু ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি প্রায় সবসময়ই স্প্যানিশ ভাষাকেই বেছে নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ইংরেজি জানা সত্ত্বেও জনসমক্ষে সেটি ব্যবহার করতে খুব একটা আগ্রহ দেখান না তিনি। অথচ তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ইংরেজিতে বেশ স্বচ্ছন্দ এই তুলনাও বহুবার আলোচনায় এসেছে।

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, স্পেনের বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানো মেসি চাইলে অনায়াসেই ইংরেজি রপ্ত করতে পারতেন। তাহলে কেন তিনি এই বৈশ্বিক ভাষাকে নিজের প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে নেননি? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মেসি নিজেই।

সম্প্রতি আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় স্ট্রিমিং চ্যানেল লুজু টিভিকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন মেসি। সেখানেই উঠে আসে ভাষা ব্যবহারের বিষয়টি। আলোচনার সূত্রপাত হয় বার্সেলোনায় খেলার সময় নেইমার ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে করা একটি চাইনিজ নববর্ষের শুভেচ্ছা ভিডিও নিয়ে। সেই ভিডিওতে নেইমার ও সুয়ারেজ চীনা ভাষায় কথা বললেও মেসি স্প্যানিশেই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন।

এই প্রসঙ্গে মেসি জানান, ক্লাবের সঙ্গে তার আগেই সমঝোতা ছিল বিনয়ের খাতিরে তিনি ভাষা পরিবর্তন করবেন না। এরপর ইংরেজি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন,
‘ইংরেজিতে কথা বলার সময় আমার অস্বস্তি লাগে। আমি এটা পছন্দ করি না। তাই সবকিছু স্প্যানিশেই করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তবে ইংরেজির ক্ষেত্রে আমি মনে করি, আমি বলতে পারি এবং অন্যরাও তা বুঝতে পারে।’

মেসি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এটি ইংরেজির প্রতি অনীহার বিষয় নয়। ব্যক্তিগত পরিসরে তিনি ইংরেজিতে কথা বলেন বলেও জানিয়েছেন। মূলত জনসমক্ষে নিজেকে সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে প্রকাশ করতে পারেন স্প্যানিশেই এই স্বাচ্ছন্দ্যকেই প্রাধান্য দেন তিনি।

ইউরোপের অধ্যায় শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইংরেজিভাষী দেশে খেললেও ভাষা নিয়ে তার এই অবস্থান বদলায়নি। বরং এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকার সরলতা, বিনয় ও আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বেরই প্রতিচ্ছবি যা মাঠের বাইরেও মেসিকে অনন্য করে তোলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন