ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড আরোপ দুঃখজনক: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত দিতে হবে, এমন সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি এটিকে ‘অস্বাভাবিক’ কোনো ঘটনা মনে করেন না।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়। অনেক দেশই এই তালিকায় আছে, যাদের ইমিগ্রেশন নিয়ে সমস্যা রয়েছে। যারা সেখানে সোশ্যাল সিস্টেম থেকে সুবিধা নিচ্ছে, তাদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ হয়, বাংলাদেশও সেই তালিকায় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। অবশ্যই এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক এবং কষ্টকর।

তিনি আরও বলেন, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। যদি পলিসির দিক থেকে দায় ধরা হয়, তবে সেটা পূর্ববর্তী সকল সরকারের উপরই পড়ে। বর্তমান সরকার বা কোনো সরকারই মানুষের যাতায়াতের স্বাভাবিক প্রবণতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের অনিয়মিত অভিবাসন নীতি প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, আমরা শুরু থেকেই অনিয়মিত অভিবাসনের বিরোধিতা করে আসছি। একমাত্র সমাধান হলো এই অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করা। সংবাদে পত্রে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছেন বা জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। এইসব ঘটনা দুঃখজনক, তবে আইন লঙ্ঘনও হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রামের একজন যুবক ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে কেনিয়া যায়, কিন্তু সে সেখানে বা তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই পরিস্থিতি বন্ধ হবে না, মানুষ মরতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ বিষয়ক ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৩৮ দেশের নাগরিকদের ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। গত বছরের আগস্টে প্রথমে ছয়টি দেশ তালিকাভুক্ত হয়, পরে আরও সাতটি দেশ যুক্ত হয়। মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।

নতুন তালিকায় যুক্ত দেশগুলোর জন্য বন্ডের শর্ত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, এটি সম্প্রতি ঘটেছে। আমরা সাধারণ প্রক্রিয়ায় কাজ করব এবং চেষ্টা করব যেন আমাদের এটা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন