ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংস্কার গণভোট: ‘হ্যাঁ’ ভোটে ১১ দলের সমর্থন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট। এতে ভোটাররা চাইলে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট দিতে পারবেন। প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল বিষয়গুলো হলো প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা জোরদার, বিচার বিভাগের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, প্রশাসনে দলীয়করণ কমানো এবং মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার সুরক্ষা। সরকারের মতে, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে একক ক্ষমতাকেন্দ্রিক বা কর্তৃত্ববাদী শাসনের ঝুঁকি কমবে।

সরকার ইতোমধ্যেই স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছেন। ঐকমত্যের কমিশনের সদস্যরাও বিভিন্ন সভা ও কর্মশালায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইমামদের জন্য আয়োজিত একটি কর্মশালায় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রগঠনের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা যাবে।”

এদিকে জামায়াতে ইসলামী, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিসহ মোট ১১ দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছে। তারা নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “সংস্কার মানে দুর্নীতি, ফ্যাসিজম ও দলীয়করণকে না বলা। জনগণের ‘হ্যাঁ’ ভোটের মধ্য দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রকাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হবে।” এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “স্বৈরাচারকে ‘না’ বলুন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলুন।”

বিএনপি গণভোটে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেনি। দলটির নেতারা হ্যাঁ বা ‘না’ ভোটে সরাসরি কোনো অবস্থান প্রকাশ না করে প্রধানত জাতীয় নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দিতে চাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন ও গণভোট একসাথে হওয়ায় ভোটারদের আচরণে প্রভাব পড়তে পারে। কেউ কেউ গণভোটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, কেউ আবার এটিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছে।

খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃত্বও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা বলছেন, জনগণকে নতুন বাংলাদেশ গড়তে, ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন আনার জন্য এবং ঘুণে ধরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছেন যে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের কারণে গণভোটের গুরুত্ব কমে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল সংবিধান সংস্কারের ভোট নয়; এটি আগামী দিনের রাষ্ট্রকাঠামো, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্ডামে পরিণত হচ্ছে। ভোটাররা শুধু নির্বাচনে নয়, দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে যাচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন