ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাত দিনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভোটের চার দিন আগে থেকে ভোটের পরের দুই দিন পর্যন্ত, অর্থাৎ ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনে এবার ৩০০ আসনে ভোটার রয়েছেন পৌনে ১৩ কোটি। সারা দেশে ভোটকেন্দ্র থাকবে ৪২ হাজার ৭৬৬টি এবং ভোটকক্ষ থাকছে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় ভোটাররা দুটি ব্যালট পেপার পাবেন। প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং চালু হয়েছে, যেখানে দেশে ও প্রবাসে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার অংশ নিতে পারবেন।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ থেকে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। মোট সাত লাখের বেশি সদস্য নির্বাচনি নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির সদস্য থাকবেন প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ৯০ হাজারের বেশি। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ড দায়িত্ব পালন করবে। উপকূলীয় এলাকায় বিশেষভাবে কোস্টগার্ড মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। এতে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের প্রতিনিধিরা থাকবেন। এছাড়া জরুরি পরিষেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে তা আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই টিম নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সমন্বয় সেলে পাঠাবে। যৌথ বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার এবং চেকপোস্ট পরিচালনায়ও কাজ করবে।
এদিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ফলে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৪২ জন। বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করতে নির্বাচন কমিশনে তিন দিনে মোট ২৯৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে তৃতীয় দিনে জমা পড়ে ১৩১টি আবেদন। আপিল গ্রহণ শেষ হবে ৯ জানুয়ারি এবং নিষ্পত্তি চলবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচনের আর মাত্র ৩৫ দিন বাকি থাকলেও ইতোমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। আগাম প্রচারের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন প্রার্থী। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং জরিমানাও করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের নিয়োগসহ সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।
এদিকে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রীতা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন অভিযোগ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আতাউর রহমান আতা। বুধবার বিকেলে তিনি এই অভিযোগ জমা দেন।




