ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দেশকে ভারতের নিয়ন্ত্রণ থেকে রক্ষা করতে হবে: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভারত দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশকে একটি উপনিবেশ বা সাব কনটিনেন্ট হিসেবে পরিচালনা করেছে। তিনি বলেন, দিল্লি হাসিনাকে আমাদের দেশে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেছিল। আমরা চাই না, বাংলাদেশ আবার সেই অতীতে ফিরে যাক। বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে, কে মসনদে বসবে, তা জনগণই নির্ধারণ করবে।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ব্যালেটে সিল দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা পুলিশ বা প্রশাসনের কাজ নয়। প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হলো জনগণ যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোট দিতে পারে। বিগত তিনটি নির্বাচনে প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি; আশা করি তারা শিক্ষা গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, পুলিশ ও প্রশাসন নগ্নভাবে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে। তাদের কাজ হলো জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিত করা। আপনারা নিরপেক্ষ থাকুন, জনগণ আপনাদের মূল্যায়ন করবে। অন্যথায় বেনজির ও হারুনের পরিণতি এড়ানো যাবে না।

হাসনাত আব্দুল্লাহ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বিভাজন তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত: এক পক্ষ চায় গোলামি, আরেক পক্ষ চায় স্বাধীনতা। এক পক্ষ ভারতের তাঁবেদারি পছন্দ করছে, অন্য পক্ষ চায় দেশের স্বনির্ভরতা। এক পক্ষ স্বাধীনতা চায়, অন্য পক্ষ পরাধীনতা।

তিনি আরও সতর্ক করেন, একটি পক্ষ চাঁদাবাজদের সমর্থন করছে, ভারতীয় গুন্ডামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং মাফিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সালের পর যারা গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে, শ্রম দিয়েছে, তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দল আবার ভারতীয় তাঁবেদারি শুরু করার পাঁয়তারা করছে। আমাদের ভাইদের মিডিয়াতে আগুন সন্ত্রাসী হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, অথচ আজ তাদের বুকে তুলে নিচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি ক্বারী মো. অলিউল্লাহ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. শরীফুল ইসলাম, পৌর সহকারী সেক্রেটারি ডা. গোলাম জিলানী, ইউনিয়ন আমির মাও. মো. হোসাইন, মেম্বার মো. আবু ইউসুফ এবং জামায়াত ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদটি শেয়ার করুন