২০২৬ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ঘিরে ভারতীয় উপস্থাপক রিধিমা পাঠককে বাদ দেওয়া হয়েছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লেও বিষয়টি আদৌ সত্য নয় বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় রিধিমা পরিষ্কার করেছেন, বিপিএল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়নি; বরং তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন।
বিপিএল থেকে বাদ পড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন রিধিমা পাঠক। সেখানে তিনি লেখেন, “গত কয়েক ঘণ্টায় যেসব খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো সঠিক নয়। আমি বিপিএল থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাঁরা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। ক্রিকেটের স্বার্থেই সত্যটা জানা প্রয়োজন। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”
এই ঘোষণার সময়টায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের সিদ্ধান্ত এবং বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন ইস্যু দুই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
রিধিমা তাঁর পোস্টে আরও লেখেন, “আমার কাছে দেশ সবার আগে। নির্দিষ্ট কোনো অ্যাসাইনমেন্টের চেয়েও ক্রিকেটকে আমি অগ্রাধিকার দিই। সততা, সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে বহু বছর ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্বিত। ক্রিকেটের স্বার্থে ভবিষ্যতেও এভাবেই কাজ করে যেতে চাই।” তাঁর এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগত ও নীতিগত।
এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে বাংলাদেশ দলের খেলাকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) চিঠি দিয়েছে বিসিবি। লিটন দাস ও তানজিদ হাসান তামিমদের ভারতে খেলতে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ভারতে খেলতে না গেলে বাংলাদেশের পয়েন্ট কাটা হতে পারে। তবে বিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে এ খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আইসিসিও জানিয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
উল্লেখ্য, চলতি বিপিএল শুরু হয়েছে ২৬ ডিসেম্বর এবং শেষ হবে ২৩ জানুয়ারি। বিপিএল শেষ হওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য মাঠে নামতে হবে। সূচি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ। এরপর একই মাঠে ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে দল।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে। তবে ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলে বাংলাদেশের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে বিপিএল, বিশ্বকাপ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন রিধিমা পাঠক—ক্রিকেট ও দেশের স্বার্থই তাঁর কাছে সবার ওপরে।




