ঢাকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার এই আদেশ দেন। পুলিশি তদন্তের প্রেক্ষিতে সিআইডি’র আবেদনের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডে অর্থ যোগান, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) অনুযায়ী ওই হিসাব ফ্রিজ করার এবং অর্থ বাজেয়াপ্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে, যাতে অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
উল্লেখ্য, হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ ১৭ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই ১৭ আসামির মধ্যে ১১ জন ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার, যার মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের পরিবার, স্ত্রী, বান্ধবী, সহযোগী এবং ব্যবসায়িক পরিচিতরা। বাকি আসামিরা পলাতক, যার মধ্যে আছে বাপ্পি, ফয়সাল, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর ও কিছু বিদেশে অবস্থানরত সহযোগী।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর হাদি নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করেন। পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ১৪ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেল চালকরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের পর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের মামলা দায়ের করেন, যা হাদির মৃত্যুর পর হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।




