ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতের সঙ্গে দূরত্ব কমছে বিএনপির

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পক্ষ থেকে প্রথম বার প্রকাশিত গভীর সমবেদনা গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসা ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সাক্ষাতে জয়শঙ্কর তারেক রহমানকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো চিঠি তুলে দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বৈঠকের ছবি শেয়ার করে জয়শঙ্কর লিখেছেন, “ভারত সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানালাম। বেগম খালেদা জিয়ার দর্শন ও মূল্যবোধ আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নে দিকনির্দেশনা দেবে।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির সঙ্গে ভারতীয় দূরত্বে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পদক্ষেপ। অতীতে নয়াদিল্লি খালেদা জিয়ার নীতি ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলেও, তারেক রহমানের সাম্প্রতিক আচরণ ভারতের কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য বার্তা দিয়েছে।

২০০১–২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের সময় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জটিল ছিল। সীমান্ত, বাণিজ্য, নদী পানি বণ্টন ও নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা থাকত, এবং ভারতের অভিযোগ ছিল বাংলাদেশে ভারতবিরোধী গোষ্ঠীর আশ্রয়। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে, বিশেষ করে খালেদা জিয়ার অসুস্থতার সময় মোদির শুভকামনা এবং বিএনপির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার প্রথম ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফেব্রুয়ারির আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বিএনপি রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে। দলটি জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে, এবং নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটকে। ভারতের জন্য জামায়াতের অবস্থান গ্রহণযোগ্য না হলেও তারেক রহমান সাম্প্রতিক বক্তব্যে নয়াদিল্লির কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।

তারেক রহমান দেশেই ফিরে মন্তব্য করেছেন, তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ চান, যেখানে সংখ্যালঘুরা নিরাপদ থাকবে। সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, নির্বাসনের সময়ে তারেক রাজনৈতিকভাবে পরিণত হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সমবেদনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের স্থায়ী পরিবর্তন আনবে না। তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, নতুন সম্পর্ক গড়তে হলে অতীত থেকে পরিষ্কার বিচ্ছেদ প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ সরকারও ভারতকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে চাপ দিতে পারে।

ভারত-বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক মূলত জনগণের ওপর ভিত্তি করে পুনর্গঠন করা হবে—এমন বার্তা দিচ্ছে বিএনপি। পাকিস্তানঘনিষ্ঠ বা ভারতবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা ভারতের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে, তবে বিএনপি আন্তঃপ্রতিবেশী সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন