ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হলে বাংলদেশিদের দিতে হবে ভিসা বন্ড

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী ভিসায় প্রবেশ করতে আগ্রহীদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত জুড়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে চালু হওয়া ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতা আরও বাড়িয়ে বাংলাদেশসহ অতিরিক্ত ২৫টি দেশকে যুক্ত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ফলে তালিকাভুক্ত দেশের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৮টিতে।

স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে। এর এক সপ্তাহেরও কম সময় আগে আরও সাতটি দেশকে ভিসা বন্ডের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছিল। দেশভেদে নীতির কার্যকর হওয়ার তারিখ আলাদা হতে পারে।

রয়টার্স জানায়, নতুন তালিকায় থাকা দেশগুলোর বড় অংশ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের সঙ্গে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডাসহ একাধিক দেশ এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, তালিকাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীরা যদি বি-১/বি-২ (ব্যবসা ও পর্যটন) ভিসার যোগ্য হন, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ এই অঙ্ক প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৩১ টাকা হিসেবে)।

ভিসা সাক্ষাৎকারে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও ইন্টারভিউয়ের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কনস্যুলার অফিসার বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড প্রদানের ক্ষেত্রে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সম্মতি দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসারের নির্দেশনা ছাড়া আগাম অর্থ জমা না দিতে আবেদনকারীদের সতর্ক করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট।

এই ভিসা বন্ড নীতি একটি পাইলট কর্মসূচির আওতায় গত আগস্টে প্রথম চালু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়ার হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বন্ড ফেরতের শর্ত
স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, ভিসা বন্ড স্থায়ীভাবে কেটে রাখা হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করলে, ভিসা পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ না করলে, অথবা মার্কিন বিমানবন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হলে বন্ড ফেরতযোগ্য হবে। তবে অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে বা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করলে (যেমন রাজনৈতিক আশ্রয়/অ্যাসাইলাম), বন্ড বাজেয়াপ্ত হবে।

নির্দিষ্ট তিন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ
ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীরা কেবল বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এবং ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত পথের বাইরে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গের ঝুঁকি থাকবে।

ভিসা বন্ড কী
ভিসা বন্ড হলো সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে আর্থিক জামানত, যাতে ভিসার শর্ত—বিশেষ করে অনুমোদিত থাকার সময়সীমা—মানা নিশ্চিত করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে; মেয়াদ অতিক্রম করলে সেটি ভিসা ওভারস্টে হিসেবে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে, এই নীতির ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন ও ব্যবসায়িক ভিসা পাওয়া আগের তুলনায় আরও ব্যয়বহুল ও প্রক্রিয়াগতভাবে জটিল হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন