শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো আবারও আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি।
ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে সোমবার ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মাচাদো জানান, গত অক্টোবরে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে সময় তিনি বিশ্বাস করতেন ট্রাম্প এই সম্মানের উপযুক্ত। তাঁর ভাষায়, “গত শনিবার ট্রাম্প যা করেছেন, তা অনেকের কাছেই অকল্পনীয় ছিল।”
নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনায় ট্রাম্পের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মাচাদো। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার ইতিহাসে ৩ জানুয়ারি একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। এটি শুধু দেশটির ভবিষ্যতের জন্য নয়, বরং মানবতা ও স্বাধীনতার জন্যও একটি বড় পদক্ষেপ।
নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানায়, মাচাদো ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করেছেন। স্বৈরশাসক নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করায় তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
তবে গত শনিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক দেশের নেতা এটিকে আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাচাদোর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। এরপর তিনি বিরোধী নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়াকে সমর্থন দেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ক্ষুব্ধ মাদুরো তাঁকে ‘ডাইনি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন।
২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা মাদুরোর বিরুদ্ধে গত বছরের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র চাপ বাড়ায়। অভিযোগ ওঠে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ কারণেই ট্রাম্প একাধিকবার মন্তব্য করেন, মাদুরোর ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।
মাচাদো বর্তমানে ভেনেজুয়েলার বাইরে অবস্থান করছেন এবং কবে দেশে ফিরবেন, তা এখনো অনিশ্চিত। এদিকে সোমবার ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডেলসি রদ্রিগেজ। শপথ শেষে তিনি মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে ‘অপহরণ’ বলে আখ্যা দেন এবং গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।




