ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেন্ট মার্টিন রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার: রিজওয়ানা

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রাকৃতিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে শুধু মাস্টারপ্ল্যান নয়, রাজনৈতিক অঙ্গীকারও জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি বলেন, ট্যুরিজম আর সেন্ট মার্টিন এক জিনিস নয়, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দ্বীপটিকে তার আগের প্রাকৃতিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা।

উপদেষ্টা জানান, দ্বীপটিকে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনেক দেশে এমন দ্বীপে রাতযাপন নিষিদ্ধ, কারণ পর্যটন নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য ভঙ্গ হয়।

সরকার সেন্ট মার্টিন রক্ষায় পাঁচটি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করবে, যার মূল লক্ষ্য হবে প্রাকৃতিক সংরক্ষণ। তিনি বলেন, যত বড় মাস্টারপ্ল্যানই হোক, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া দ্বীপ রক্ষা সম্ভব নয়। পর্যটন কর্মকাণ্ড অবশ্যই স্থানীয় জনগোষ্ঠী-কেন্দ্রিক হতে হবে। বহিরাগত নিয়ন্ত্রিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমই দ্বীপের পরিবেশ ধ্বংসের মূল কারণ।

সেন্ট মার্টিনের স্থানীয়দের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করবে। মাস্টারপ্ল্যানের প্রথম অগ্রাধিকার হবে সংরক্ষণ, এরপর অর্থনীতি ও পর্যটন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সেন্ট মার্টিন কোনো বারবিকিউ বা লাউডস্পিকারের জায়গা নয়; এটি প্রকৃতির কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা।

তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয়দের ঘরে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তুললে সেটিই হবে হোটেল-রিসোর্ট নির্ভরতার টেকসই বিকল্প। দ্বীপের ভাঙন, সংরক্ষণ ও স্থানীয় কর্মসংস্থান—এই তিনটি ক্ষেত্র সরকারিভাবে নজরদারিতে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন