এনজো মারেস্কার পদত্যাগের পর চেলসির নতুন কোচ নিয়োগ নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা। স্কাই স্পোর্টসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, ২ থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যেই নতুন কোচ ঘোষণা করবে চেলসি কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তখন ঘুরেফিরে উঠে আসে লিগ ওয়ানের ক্লাব স্ট্রার্সবুর্গের কোচ লিয়াম রসেনিয়র এবং প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত মুখ অলিভার গ্লাসনারের নাম।
তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয় দ্য ব্লুজ। মারেস্কার বিদায়ের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ইংলিশ কোচ লিয়াম রসেনিয়রকে ছয় বছরের জন্য চেলসির নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয় ক্লাবটি। দীর্ঘমেয়াদি এই চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দিকেই এগোচ্ছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটি।
২০২৪ সালে ফরাসি ক্লাব স্ট্রার্সবুর্গের দায়িত্ব নেন রসেনিয়র। সেখানে তার সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে দুই বছরের মাথায় সেই অধ্যায় শেষ করে আবারও প্রিমিয়ার লিগে ফিরলেন এই ইংলিশ কোচ। এর আগেও তিনি ইংলিশ ফুটবলে পরিচিত মুখ ছিলেন, বিশেষ করে হাল সিটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার কাজ প্রশংসিত হয়েছিল।
স্ট্রার্সবুর্গে রসেনিয়রের সময়টা ছিল বেশ সফল। ক্লাবটির হয়ে তিনি মোট ৬৩টি ম্যাচ পরিচালনা করেন। এর মধ্যে ৩২টিতে জয় পায় দল, ১৪টি ম্যাচ শেষ হয় ড্রয়ে। ফলাফলের পাশাপাশি দলের খেলার ধরনেও স্পষ্ট ছাপ রাখেন তিনি, যা ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়ে।
কোচ হিসেবে লিয়াম রসেনিয়রের পরিচিতি মূলত তার আধুনিক ও সাহসী ফুটবল দর্শনের জন্য। তিনি পজেশনভিত্তিক আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী, যেখানে দল পেছন থেকে গেম বিল্ডআপ করে এবং বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তিনি রক্ষণাত্মক মানসিকতায় আটকে থাকেন না; বরং কৌশলগত ঝুঁকি নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তার কাছে ফলাফলের পাশাপাশি ফুটবলের দর্শন ও খেলার সৌন্দর্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
রসেনিয়রের আরেকটি বড় শক্তি হলো তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলার সক্ষমতা। একাডেমি ও তরুণ ফুটবলারদের ওপর আস্থা রেখে তিনি তাদের দায়িত্বশীল করে তোলেন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ান। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক খোলামেলা ও ইতিবাচক, যা ড্রেসিংরুমে একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নেতৃত্বের গুণ এবং খেলোয়াড়-বান্ধব মানসিকতার কারণে লিয়াম রসেনিয়রকে আধুনিক প্রজন্মের অন্যতম সম্ভাবনাময় কোচ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চেলসি তাকে ছয় বছরের দায়িত্ব দিয়ে মূলত সেই দর্শনকেই গুরুত্ব দিয়েছে যেখানে ভবিষ্যৎ গড়া হবে ধৈর্য, পরিকল্পনা ও তরুণদের বিকাশের মাধ্যমে।




