ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসুস্থতা কাটিয়ে কলকাতার গুপ্ত বাসায় ওবায়দুল কাদের

কলকাতায় চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঠান্ডাজনিত জটিলতায় গলাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও দাঁতের ব্যথা নিয়ে তিনি নিউটাউনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুই দিন ভর্তি ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছাড়ার পর থেকেই কাদের ভারতে অবস্থান করছেন। সম্প্রতি শারীরিক সমস্যার কারণে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। চিকিৎসা শেষে সোমবার বিকেলে তিনি নিউটাউনের বাসায় ফিরে যান।

ওবায়দুল কাদেরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা যুবলীগের এক নেতা গণমাধ্যমকে বলেন, কয়েক দিন ধরে ঠান্ডাজনিত কারণে তার গলায় ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট বাড়ছিল। পাশাপাশি দাঁতেও ব্যথা অনুভব করছিলেন। চিকিৎসা নেওয়ার পর এখন তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন।

ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও কাদেরের শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন, তবে আজ তার অবস্থা অনেকটাই ভালো। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন এবং নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।”

সরকার পতনের পর থেকে কাদের কলকাতায় রয়েছেন বলে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দাবি করে আসছেন। আন্দোলন দমনে সহিংসতা ও প্রাণহানির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় ঢাকার আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পলাতক বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে।

হঠাৎ অসুস্থতার কারণে ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানেও যুক্ত হতে পারেননি ওবায়দুল কাদের। ওই অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান জানান, গলাব্যথা ও দাঁতের সমস্যার কারণে কাদের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেননি।

চব্বিশের আন্দোলনের পর থেকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি ইনানকেও। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে বলপ্রয়োগের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে অনুপস্থিত ছিলেন। পরে খবর আসে, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছেন এবং কলকাতায় অবস্থান করছেন।

আত্মগোপনে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো চলতি বছরের ২৬ মে অনলাইনে তার কণ্ঠ শোনা যায়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ওয়াল নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনে স্ত্রীসহ কীভাবে কয়েক ঘণ্টা একটি বাড়ির বাথরুমে লুকিয়ে ছিলেন, সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান। তার দাবি, সরকার পতনের পরও তিনি তিন মাস দেশে ছিলেন, পরে ভারতে যান।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে ডজনখানেক মামলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কলকাতায় অবস্থানকালে গত কয়েক মাস ধরে কাদেরের শারীরিক অবস্থা কিছুটা দুর্বল ছিল। ৭৬ বছর বয়সী এই রাজনীতিক দীর্ঘদিন ধরেই হৃদরোগে ভুগছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের মার্চে শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার হৃদযন্ত্রের রক্তনালীতে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের মাধ্যমে অপসারণের পর সাময়িক উন্নতি হলেও পরে আবার অবস্থার অবনতি হয়। সে সময় ভারতের খ্যাতনামা হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ দেবী প্রসাদ শেঠী ঢাকায় এসে তাকে দেখেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরেছিলেন—বর্তমানে আবারও চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে দাবি দলীয় সূত্রের।

সংবাদটি শেয়ার করুন