ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঋণখেলাপি হয়েও নির্বাচনে টিকে গেলো ৩১ প্রার্থী

ঋণখেলাপি হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে ৩১ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা পেয়েছেন। এদের মধ্যে ১৫ জন বিএনপির, ১১ জন স্বতন্ত্র এবং বাকিরা বিভিন্ন দলের প্রার্থী। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার কারণে এই প্রার্থীরা ঋণ খেলাপির তালিকায় ছিলেন, কিন্তু আদালতের স্থগিতাদেশে তারা বাছাইয়ে টিকে গেছেন।

এবারের নির্বাচনে সারাদেশের ৩০০ আসনের জন্য মোট ২,৫৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ঋণখেলাপির কারণে ৮২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। এর মধ্যে ২৮ জন স্বতন্ত্র, ৩ জন বিএনপি এবং ২ জন জামায়াত মনোনীত। এছাড়া জাতীয় পার্টি, সিপিবি এবং চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত। অন্যান্য কারণে সব মিলিয়ে ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাছাই শেষে ১,৮৪২ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৈধ এবং অবৈধ মনোনয়নপত্রের বিরুদ্ধে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বগুড়া-১ কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৫ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, টাঙ্গাইল-৪ মো. লুৎফর রহমান, ময়মনসিংহ-৫ মো. জাকির হোসেন, গাজীপুর-৪ শাহ রিয়াজুল হান্নান, মৌলভীবাজার-৪ মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী, কুমিল্লা-৭ রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-৯ মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-২ সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ মো. আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ গোলাম আকবর খোন্দকার ও গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৬ মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। এ ছাড়া বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ থেকে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্নাও রয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে যশোর-৫ মো. কামরুজ্জামান, ময়মনসিংহ-১০ মো. মুশফিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ এসএকে একরামুজ্জামান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন, কুমিল্লা-৯ ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক, চাঁদপুর-২ তানভীর হুদা, চট্টগ্রাম-৫ এসএম ফজলুল হক, নোয়াখালী-২ কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান, সিলেট-৩ মোস্তাকিম রাজা চৌধুরী এবং সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ। এছাড়া জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রার্থীও বৈধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন।

ঋণখেলাপি প্রার্থীরা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না, তবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ঋণ খেলাপি প্রমাণিত হলে সংসদ সদস্যের পদ হারাতে পারেননির্বাচনী কমিশনের তপশিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি

বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, জেএসডি, এলডিপি, কমিউনিস্ট পার্টি এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থীরা। তবে তিনটি আসনে বিএনপির মূল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনে টিকে গেছেন। উদাহরণস্বরূপ, যশোর-৪ আসনের টিএস আইয়ুবের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তবে দলীয় বিকল্প প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফরাজী বৈধ।

বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থীও ঋণ খেলাপির কারণে নির্বাচনে অযোগ্য হয়েছেন। এদের মধ্যে রংপুর-৬ এসএম শাহ্জামান রওশন, নওগাঁ-৪ মো. আব্দুস সামাদ প্রামাণিক, রাজশাহী-৫ জুলকার নাঈম মোস্তফা, মাগুরা-১ কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, খুলনা-৩ এসএম আরিফুর রহমান মিঠু এবং চট্টগ্রাম-৩ মো. মোয়াহেদুল মাওলা উল্লেখযোগ্য।

এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বৈধতা আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে টিকে থাকতে পেরেছে, যা নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রার্থীদের জন্য একটি বিশেষ সুযোগ হিসেবে কাজ করেছে। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর ঋণ খেলাপি প্রমাণিত হলে তাদের পদ হারানোর সম্ভাবনা থাকছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন