ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা দিলেও ভারতে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ

ভারতে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বিসিবি শুধু এখন নয়, শেষ পর্যন্ত এই অবস্থানেই অটল থাকতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। জানা গেছে, আজ দিনের কোনো এক সময়ে অনলাইন সভার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আইসিসির প্রতিটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক সংস্থা ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দেশ যদি পরবর্তীতে টুর্নামেন্ট বা টুর্নামেন্টের কোনো অংশে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আইসিসিকে যুক্তিসংগত কারণ জানাতে হয়।

ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও ‘নিরাপদ’ কারণ হিসেবে ধরা হয় সরকারি নিষেধাজ্ঞা। অতীতে ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সফর বাতিল কিংবা ভেন্যু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই যুক্তিই ব্যবহৃত হয়েছে এবং আইসিসিও তা মেনে নিয়েছে। চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনও তারই উদাহরণ।

বাংলাদেশও এবার সেই একই পথে হাঁটতে চাইছে। বিসিবির প্রস্তাবের মূল ভিত্তি নিরাপত্তা। বোর্ড ও বাংলাদেশ সরকার উভয়েরই আশঙ্কা, ভারতে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বিসিবিকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপ উপলক্ষে যেন বাংলাদেশ দল ভারত সফর না করে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাই মূলত ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীর হুমকির মুখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে একজন ক্রিকেটারের নিরাপত্তা যেখানে নিশ্চিত নয়, সেখানে বিশ্বকাপের মতো আসরে বিশাল বহরের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে?

কলকাতা ও মুম্বাইয়ে ম্যাচ খেলতে গেলে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে থাকবেন খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তা, সংবাদকর্মী ও দর্শক সব মিলিয়ে বড় একটি বহর। এক মোস্তাফিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকলে এত মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কোথায়?

গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে খোলা শোকবইয়ে স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ বোধ করছি না। চিঠিতে আমরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, নিরাপত্তা আমাদের বড় দুশ্চিন্তার জায়গা।’

মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘অসম্মানজনক’ বলেও উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজকের অনলাইন বৈঠকে আইসিসির মাধ্যমে বিসিসিআই বাংলাদেশ দলকে ভারতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে। তবে তাতেও বিসিবি তাদের অবস্থান বদলাবে না এমন সিদ্ধান্তই গতকাল পর্যন্ত বহাল ছিল।

বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘যেখানে সরকারের নিষেধাজ্ঞা আছে, সেখানে আমাদের ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার সুযোগ নেই। নিরাপত্তার প্রশ্ন শুধু খেলোয়াড়দের নয়, বাংলাদেশ থেকে যাঁরা যাবেন সবার।’

বৈশ্বিক ইভেন্টের স্বাগতিক হিসেবে সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিসিসিআই ও ভারত সরকারের দায়িত্ব। আয়োজক হিসেবে আইসিসির দায়িত্ব সেই নিশ্চয়তা আদায় করা।

বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের হলেও বিষয়টি এতটাই স্পর্শকাতর যে ভারত বা আইসিসি কেউই সহজে এড়িয়ে যেতে পারছে না। ভারতীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ইতোমধ্যে জানিয়েছে, বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাবে আইসিসি ইতিবাচক হতে পারে।

তবে বাস্তবতা হলো বিশ্বকাপের মাত্র এক মাস আগে বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানো অত্যন্ত জটিল। সূচি, সম্প্রচার পরিকল্পনা এবং প্রতিপক্ষ বোর্ডগুলোর সম্মতি সবকিছুতেই বড় পরিবর্তন লাগবে।

আইসিসি যদি বিসিবির প্রস্তাব না মানে এবং বিসিবিও অবস্থান না বদলায়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিপক্ষরা ওয়াকওভার পেতে পারে। এমনকি আরও কঠোর শাস্তির ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে বিসিবির আশা, পরিস্থিতি সেদিকে যাবে না। বোর্ডের এক পরিচালক বলেন, ‘আমরা মনে করি না কঠোর কিছু হবে। নিরাপত্তা নিয়ে যে বাস্তব প্রশ্ন আছে, সেটা সবাইই বুঝতে পারছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন