ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ায় বদলেছে চট্টগ্রাম রয়্যালসের চিত্র

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ছেড়ে দেয় মালিকপক্ষ। ফলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি, প্রশ্ন ওঠে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও। সেই ঘটনায় বাজেভাবে সম্মানহানির শিকার হয় চট্টগ্রাম।

তবে বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করেছে। মাঠের ভেতর পারফরম্যান্সে এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন, আর ড্রেসিংরুমে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস। যদিও গতকাল (রোববার) রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরেছে চট্টগ্রাম, তবুও ম্যাচজুড়ে লড়াইয়ের ছাপ ছিল স্পষ্ট।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা ব্যাটিং কোচ তুষার ইমরানের কণ্ঠে ছিল আক্ষেপের সুর। তার মতে, ম্যাচের কয়েকটি মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

তুষার ইমরান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় শুরুতে আমরা ভালো ব্যাট করেছি। কিন্তু বোলিংয়ে প্রথম ছয় ওভারে বেশি রান দিয়ে ফেলেছি। ৮ থেকে ১৫ ওভারে আবার মোমেন্টাম ফিরে পেয়েছিলাম। এরপর এক ওভারে রিয়াদ ১৮–২০ রান নিয়ে নেওয়ায় ম্যাচটা আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তারা বেটার সাইড, জিততে পারলে ভালো লাগতো।’

তিনি আরও যোগ করেন,‘আগের তিন ম্যাচ আমরা জিতেছি। দল ভালোই যাচ্ছে।’

দলের ব্যাটিং নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তুষার স্মরণ করিয়ে দেন প্রথম ম্যাচের কথাও, ‘প্রথম ম্যাচে নোয়াখালীর বিপক্ষে অল্প রানে অলআউট হয়েছিলাম। পরে তারা চেইজ করেছে। রাতে রান হচ্ছে, সেক্ষেত্রে উইকেট এখন পর্যন্ত ভালোই খেলছে। শেষ পর্যন্ত এমন থাকে কিনা, সেটা দেখা যাবে।’

তার বক্তব্যে স্পষ্ট উইকেট ও কন্ডিশন চট্টগ্রামের ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হয়ে উঠছে, যা ভবিষ্যৎ ম্যাচগুলোতে বাড়তি সুবিধা দেবে।

বিপিএল শুরুর আগের দিন ঘটে বিরল ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক কাইয়ুম রশিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেন, তারা আর মালিকানা ধরে রাখতে চান না। চিঠিতে আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর বিসিবি সরাসরি দায়িত্ব নেয় দলটির।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই মাঠে দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন তুষার ইমরান। ‘বোর্ড দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্লেয়াররা আপ্রাণ চেষ্টা করছে ভালো খেলার। ম্যানেজমেন্ট থেকে আমরা পূর্ণ সাপোর্ট পাচ্ছি। হাবিবুল বাশার সুমন ভাই, নাফীস ইকবাল এরা সবাই বিসিবির টপ ম্যানেজমেন্টে থেকে আমাদের মানসিকভাবে বুস্ট আপ করেছে।’

চট্টগ্রাম কি এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারবে? প্রশ্নের জবাবে বাস্তববাদী উত্তর দেন তুষার, ‘দেখা যাক। কোয়ালিফাই করতে পারলে ভালো। ছয়টা ম্যাচ জিততে পারলে হয়তো শেষ চারে যাওয়া সম্ভব। সেখান থেকে জিতলে ফাইনাল। আপাতত শেষ চারই টার্গেট। এখনও অনেক ম্যাচ বাকি।’

অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান নিয়েও প্রশংসা ঝরেছে কোচের কণ্ঠে। ‘সে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশ দলে এক সিরিজে সহ-অধিনায়ক ছিল। এখানে সে ভালো করছে। প্লেয়ারদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো, ড্রেসিংরুমের বাইরেও দলটাকে ভালোভাবে হ্যান্ডেল করছে। মাঠের ভেতরে যেটা সবচেয়ে দরকার, সেটা সে ঠিকঠাক করছে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন