ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার পতনের পর ব্রিটেনে আশ্রয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সরকার পতনের পর দলের অনেক নেতাকর্মী নিরাপত্তার কারণে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে চলে গেছেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রের খবর, সাবেক মন্ত্রী, সাবেক হুইপ, সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েকশ’ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আইন সম্পাদক ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। এছাড়া সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এবং সাবেক পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী আবদুল ওয়াদুদ দারাও আছেন।

স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিধান কুমার শাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহ আহমদ সেলিম এবং প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের ছেলে আরমান আহমদ শিপলু।

কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ের আরও বহু নেতাকর্মী, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতারাও যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে বর্তমানে আশ্রয় প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ হয়নি। সূত্রের খবর, আবেদনকারীদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন সাময়িক আশ্রয় বা প্রাথমিক সুরক্ষা পেয়েছেন, বাকিদের আবেদন যাচাই-বাছাই করে যুক্তরাজ্যের আদালত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক বলেন, “সরকার পতনের পর দেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জন্য চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ে অনেকে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ জন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক এমপি ও সাবেক মেয়র পর্যায়ের নেতা রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ের ১০ থেকে ১৫ জন শীর্ষ নেতা এবং বিভিন্ন স্তরের কয়েকশ’ নেতাকর্মী এখানে অবস্থান করছেন।”

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, ব্রিটেনে অবস্থানরত নেতাদের মধ্যে হাতে গোনা মাত্র দুই-তিনজন আগে থেকে ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেনবাকিরা রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেনতিনি বলেন, “যাঁরা প্রাণ বাঁচাতে এখানে এসেছেন, তাঁদের জন্য রাজনৈতিক আশ্রয় ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।”

সংবাদটি শেয়ার করুন