ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে আট খাতের প্রতিশ্রুতি

রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের পূর্বঘোষিত ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে আটটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহার প্রণয়নে কাজ করছে বিএনপি। পরিবর্তনের রাজনীতির বার্তা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে দলটির নীতি-নির্ধারণী মহল পুরোদমে ইশতেহার তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এবারের ইশতেহারে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের উন্নয়ন সেবা। দলটির প্রত্যাশা, এসব নতুন ও সময়োপযোগী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে। পাশাপাশি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও দিকনির্দেশনাও ইশতেহারে প্রতিফলিত হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আটটি খাতভিত্তিক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে কার্ডভিত্তিক সুবিধা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন ধারণা, যা বাস্তবায়িত হলে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।

বিএনপির নীতি-নির্ধারক ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, শাসনব্যবস্থার সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও দুর্নীতিবিরোধী কাঠামো শক্তিশালী করা বিএনপির ইশতেহারের কেন্দ্রীয় বিষয় হবে। তিনি বলেন, বিএনপি কখনোই বাস্তবায়নযোগ্য নয়এমন প্রতিশ্রুতি দেয় না।

জাতীয় স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেন, পরিবর্তনের রাজনীতির অংশ হিসেবেই আটটি খাতে কার্ডভিত্তিক সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। মানুষের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই বিএনপির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, আসন্ন নির্বাচন জনগণের জন্য পরিবর্তনের সুযোগ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি নীতিনির্ভর ও দায়িত্বশীল রাজনীতির পথে এগোচ্ছে। আটটি খাতের প্রতিশ্রুতি জনগণের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বিএনপি দেশব্যাপী ব্যাপক তথ্য-প্রচার কর্মসূচি শুরু করেছে। এ লক্ষ্যে পাঁচটি টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের কাছে বিএনপির পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আটটি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিএনপির প্রতি আস্থার জায়গা তৈরি হতে পারেএসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসামাজিক সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মনে করেন

জানা গেছে, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারীর নামে কার্ড চালু করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সার, বীজ, ঋণ ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

স্বাস্থ্য খাতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারাদেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের বেশিরভাগই নারী হবেন।

শিক্ষা ক্ষেত্রে মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ক্রীড়া, পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও ধর্মীয় নেতাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতেও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে ইশতেহারে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, ক্ষমতায় গেলে যেন দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু করা যায়সে লক্ষ্যেই বাস্তবভিত্তিক ও প্রস্তুত কর্মপরিকল্পনা নিয়েই তারা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন