ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য ঘিরে কড়াকড়ি নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রার্থীদের দাখিল করা নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের হিসাব খুঁটিয়ে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্টস করাপশনের (র্যাক) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমা দেওয়া হলফনামাগুলো ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, প্রার্থীদের সম্পদের তথ্য নিয়ে কোনো অসংগতি বা সন্দেহ দেখা দিলে তা চিহ্নিত করতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুদক নিজ উদ্যোগেও হলফনামাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। প্রয়োজনে সংস্থার অন্যান্য কার্যক্রম সীমিত করে এই কাজে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরাও যদি হলফনামায় কোনো অস্বাভাবিক তথ্য খুঁজে পান, তাহলে তা দুদকের নজরে আনতে পারেন। দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নতুন আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট। কোনো অবস্থাতেই দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করা হবে না। যদি নতুন আইনে আপোষের সুযোগ রাখা হয়, তাহলে দুদক তার আগের অবস্থানেই অনড় থাকবে এবং প্রয়োজনে সরকারকেও বিষয়টি জানানো হবে।
মতবিনিময় সভায় দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীমসহ সংস্থাটির চারজন মহাপরিচালক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শুরুর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক এবং বিদায়ী সভাপতি আলাউদ্দিন আরিফ। তারা সবাই দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে দুদকের পাশে থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ সময় র্যাকের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।




