ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ যে কারণে অবসর নিতে চেয়েছিলেন নেইমার

দীর্ঘদিনের চোটের আবহে ফুটবল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র। এই তথ্য জানিয়েছেন তার বাবা, নেইমার সিনিয়র। শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত সময় পার করছিলেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড, যিনি সান্তোসে ফেরার পরও একের পর এক চোটে জর্জরিত ছিলেন।

নেইমারের হাঁটুর লিগামেন্টে গুরুতর চোটের কারণে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-হিলালের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়। সান্তোসে ফিরে এলেও পুরোপুরি ফিটনেসে ফেরার সুযোগ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে হাঁটুর মেনিসকাসের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে।

নেইমার সিনিয়র জানান, দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কারণে মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন নেইমার। তিনি বলেন, “একসময় ও আমাকে বলেছিল, ‘আমি আর নিতে পারছি না। জানি না এই অপারেশন কাজ হবে কি না। আমার জন্য মনে হয় এখানেই শেষ।’ তখন বুঝতে পারছিলাম ও কতটা মানসিক চাপে আছে।”

সংবাদমাধ্যমে অস্ত্রোপচারের খবর আগে প্রকাশ পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। নেইমারের বাবা বলেন, “খবর বেরিয়ে গেল, অথচ আমরা ওকে কিছু বলিনি। তখন ওর মাথা একেবারে ফাঁকা হয়ে গেল। মানুষ বলতে থাকল নেইমার এ বছর আর খেলবে না। এটি ওকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছে।”

তারপরও অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ান নেইমার। ২০২৫ সালে সান্তোসকে অবনমন ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ব্যথা নিয়েই মাঠে নামেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে খেলার স্বপ্নও এখনো জীবিত রেখেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে দেশের হয়ে সর্বমোট ৭৯ গোল।

নেইমার সিনিয়র বলেন, “বিশ্বকাপের লক্ষ্যই তাকে মানসিকভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। আমি ওকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি কিছু মানুষ জোরে কথা বলে, তারা চায় তুমি হাল ছেড়ে দাও। কিন্তু এখন যদি আমরা থামি, তাহলে অনেক কিছু বাকি থাকবে না। বিশ্বকাপের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।”

বর্তমানে নেইমার সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের মধ্যে আছেন। অবসরের চিন্তা আপাতত স্থগিত। ইউরোপ বা এমএলএসে গুঞ্জন থাকলেও, ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত সান্তোসেই থাকার পরিকল্পনাই এখন তাঁর অগ্রাধিকার।

সংবাদটি শেয়ার করুন